সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম করতে গিয়ে চাকরি আর সম্পর্ক দুটোই যেন না যায়। HR পলিসি না মানা, অফিসে ঘনিষ্ঠতা, গসিপ, পক্ষপাতিত্ব- এই ৭টি ভুল এড়িয়ে চললেই অফিস রোমান্স দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং ক্যারিয়ারও সুরক্ষিত থাকবে।
Head:
URL:
Keywords:
Sarangsho:
অফিস মানেই সপ্তাহে ৫ দিন, দিনে ৮-৯ ঘণ্টা একসাথে থাকা। স্বাভাবিকভাবেই পাশের ডেস্কের মানুষটার প্রতি দুর্বলতা তৈরি হতেই পারে। কিন্তু অফিস রোমান্সের মিষ্টতা যেমন আছে, তেমনই আছে অনেক ঝুঁকি। একটা ভুল সিদ্ধান্ত আপনার বছরের পর বছরের ক্যারিয়ার এবং সম্পর্ক দুটোকেই শেষ করে দিতে পারে। তাই "হ্যাঁ" বলার আগে এই ৭টি বিষয় মাথায় রাখুন।
১. HR পলিসি না জেনেই সম্পর্কে জড়ানো এটা সবচেয়ে বড় ভুল। অনেক বড় কোম্পানিতে "Love Contract" বা "Disclosure Policy" থাকে। যেখানে সম্পর্কের কথা HR-কে লিখিতভাবে জানাতে হয়। আবার অনেক জায়গায় একই রিপোর্টিং লাইনে থাকা দুজনের ডেটিং কড়া ভাবে নিষেধ। সম্পর্ক শুর আগেই একবার HR ম্যানুয়ালটা পড়ে নিন। নাহলে পরে শোকজ নোটিস এলে হাতে-পায়ে ধরেও লাভ হবে না।
২. অফিসে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা দেখানো ডেস্কে বসে হাত ধরা, লাঞ্চে খাবার খাইয়ে দেওয়া, মিটিংয়ের মধ্যে চোখে চোখে কথা বলা- এগুলো আপনার কাছে স্বাভাবিক লাগলেও বাকিদের কাছে এটা "Unprofessional"। এতে আপনার এবং আপনার পার্টনারের দুজনেরই প্রফেশনাল ইমেজ নষ্ট হয়। সহকর্মীরাও অস্বস্তিতে পড়েন। অফিসকে অফিসের মতো রাখুন। আদর-ভালোবাসা অফিসের বাইরের জন্য তোলা থাক।
৩. কাজের মধ্যে ব্যক্তিগত ঝামেলা টেনে আনা কাল রাতে ঝগড়া হয়েছে, আজ অফিসে এসে মুখ ভার করে বসে আছেন। বা পার্টনারকে দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। এগুলো একদমই করবেন না। অফিসে ঢোকার সাথে ব্যক্তিগত জীবনটা বাইরে রেখে আসুন। কাজের সময় শুধুই কাজ। অন্যথায় আপনার Performance Review-এ এর প্রভাব পড়বে।
৪. গসিপ এবং টিম পলিটিক্সে জড়ানো "ও আমাকে এই বলেছে", "ওর আগের সম্পর্কটা কেমন ছিল জানো?"- এই ধরনের কথা টি-ব্রেক বা লাঞ্চে আলোচনা করবেন না। অফিস রোমান্স নিয়ে গসিপ আগুনের মতো ছড়ায়। একবার আপনার সম্পর্কে বাজে কথা উঠলে প্রমোশন, ইনক্রিমেন্ট সব আটকে যাবে। সম্পর্কটা যতটা সম্ভব প্রাইভেট রাখুন।
৫. পক্ষপাতিত্ব দেখানো বা ফেভার করা আপনি টিম লিড আর আপনার পার্টনার আপনার টিমেই আছে? তাহলে সবচেয়ে ভালো প্রজেক্টটা তাকেই দেওয়া, তার ভুলকে আড়াল করা- এই কাজগুলো করবেন না। এতে পুরো টিমের মধ্যে নেগেটিভিটি তৈরি হয়। আর ম্যানেজমেন্টের চোখে আপনি "Biased" হিসেবে দাগিয়ে যাবেন। কাজের মূল্যায়ন সবসময় নিরপেক্ষভাবে করুন।
৬. সোশ্যাল মিডিয়ায় অফিসিয়াল ঘোষণা রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস "In a relationship with XYZ from Office" দিয়ে দেওয়া বা অফিসের ছবি দিয়ে ক্যাপশন দেওয়া থেকে আপাতত বিরত থাকুন। সম্পর্ক নতুন থাকতে থাকতেই সবাইকে জানিয়ে দিলে চাপ বেড়ে যায়। আগে দেখুন সম্পর্কটা কতটা মজবুত হচ্ছে। তারপর ধীরে সুস্থে সবাইকে জানান।
৭. ব্রেকআপের পরের প্ল্যান না থাকা তেতো হলেও সত্যি, সব সম্পর্ক টেকে না। কিন্তু ব্রেকআপ হয়ে গেলেও তো রোজ অফিসে দেখা হবে। তাই আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন, ঝামেলা হলেও প্রফেশনাল থাকবেন। ইগো, ব্লেম গেম, একে অপরকে অপমান করা- এগুলো করলে দিনের শেষে আপনারই ক্যারিয়ারের ক্ষতি।
সহকর্মীর সঙ্গে প্রেম করা খারাপ নয়। অনেক সফল বিয়ে অফিস থেকেই শুরু হয়েছে। শর্ত একটাই- স্বচ্ছতা, সম্মান আর প্রফেশনাল বাউন্ডারি। মনে রাখবেন, আপনি প্রথমে একজন প্রফেশনাল, তারপর একজন পার্টনার।
অতএব ভালোবাসুন মন খুলে, তবে চোখ-কান খোলা রেখে। নিয়ম মেনে চললে চাকরিও থাকবে, পাশে ভালোবাসার মানুষটাও।


