মহাশিবরাত্রির উপবাস শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রীতি নয়, এর একাধিক শারীরিক ও মানসিক উপকারিতাও রয়েছে। এই ব্রত হজমশক্তি উন্নত করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
মহাশিবরাত্রি উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এর পেছনে শারীরিক ও মানসিক গুরুত্বও লুকিয়ে আছে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপবাস, ধ্যান এবং সংযমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি মহাশিবরাত্রির উপবাস পালন করেন, তবে তিনি একাধিক উপকার পান। আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক বিজ্ঞান অনুসারে, উপবাস মনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মহাশিবরাত্রির এই বিশেষ মুহূর্তে আসুন জেনে নিই, এই ব্রতের কী কী উপকারিতা রয়েছে।
হজমশক্তি ভালো থাকে
মহাশিবরাত্রির উপবাসে ফলাহার করা হয়, যাতে হালকা খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে পাচনতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং শরীর নিজেকে ডিটক্স করতে শুরু করে। উপবাসের ফলে অন্ত্র পরিষ্কার হয় এবং মেটাবলিজমও দ্রুত হয়। উপবাসের পর ব্যক্তি হালকা এবং শক্তিপূর্ণ অনুভব করেন।
হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে
উপবাস করলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়াও, উপবাসের সময় শরীর থেকে গ্রোথ হরমোন এবং মেলাটোনিন সঠিকভাবে নিঃসৃত হয়, যা ঘুম এবং মানসিক ভারসাম্যের জন্য জরুরি।
মানসিক চাপ কমে যায়
মহাশিবরাত্রির রাতে ধ্যান এবং জাগরণ শরীরের জন্য উপকারী। এই সময় ধ্যান করলে মস্তিষ্কের অপ্রয়োজনীয় কার্যকলাপ কমে যায়, যার ফলে মনোযোগ বাড়ে। মেডিটেশন স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমায়, যার কারণে উদ্বেগ কমে আসে।
শক্তি পুনরায় সেট হয়
মহাশিবরাত্রির উপবাসের সময় শরীর খাবার হজম করতে কম শক্তি ব্যয় করে। ফলে শরীরের শক্তি ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হয়। উপবাসের পর শরীর পুনরায় সেট হয়ে যায় এবং ব্যক্তির শক্তিও নতুন করে ফিরে আসে।
উপবাসের সময় এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখুন
মহাশিবরাত্রির উপবাসের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন। খাবারের মধ্যে প্রোটিনের পাশাপাশি অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খান। ফলাহারের মধ্যে আপনি অনেক বিকল্প পাবেন।


