ঝিঙে কাটার পর খোসাটা আমরা কী করি? ডাস্টবিনে যায়। অথচ গ্রামের মা-ঠাকুমারা এই খোসা কখনো ফেলত না। তারা জানত ঝিঙের খোসায় আছে সবচেয়ে বেশি ফাইবার আর জল। আর এই খোসা দিয়েই হয় মুখে লেগে থাকার মতো একটা ভর্তা।

একেতেই বর্ষাকাল। থালায় গরম ভাত, পাশে পাতলা ঝিঙের ঝোল। কিন্তু ঝিঙে কাটার পর খোসাটা আমরা কী করি? ডাস্টবিনে যায়। অথচ গ্রামের মা-ঠাকুমারা এই খোসা কখনো ফেলত না। তারা জানত ঝিঙের খোসায় আছে সবচেয়ে বেশি ফাইবার আর জল। আর এই খোসা দিয়েই হয় মুখে লেগে থাকার মতো একটা ভর্তা। যখন বৃষ্টির জন্য মুখে স্বাদ নেই, পেট ভার হয়ে আছে, তখন এই ঝিঙে খোসার ভর্তা আর একটু সরষের তেলই পারে পুরো থালা ভাত শেষ করিয়ে দিতে। আর হ্যাঁ, একদম জিরো ওয়েস্ট।

*উপকরণ (২ জনের জন্য)*

- ঝিঙের খোসা - ২টো ঝিঙের

- পেঁয়াজ কুচি - ১টা মাঝারি

- রসুন কোয়া - ৪-৫টা, থেঁতো

- কাঁচা লঙ্কা - ২-৩টে, চেরা

- কালোজিরে - ১/২ চা চামচ

- নুন - স্বাদ মতো

- হলুদ গুঁড়ো - ১ চিমটি

- সরষের তেল - ৩ চা চামচ

*প্রণালী: ৪টে স্টেপেই রেডি*

*স্টেপ ১: পরিষ্কার করুন*

ঝিঙের খোসা ভালো করে ধুয়ে নিন। খোসার সাথে লেগে থাকা নরম সাদা অংশটা তুলবেন না। ওটাই আসল স্বাদ।

*স্টেপ ২: ভাজুন*

কড়াইতে ২ চা চামচ সরষের তেল গরম করুন। কালোজিরে, রসুন, কাঁচা লঙ্কা ফোড়ন দিন। সুগন্ধ বেরোলে পেঁয়াজ দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন।

*স্টেপ ৩: খোসা দিয়ে ভাজুন*

এবার খোসা, নুন আর হলুদ দিয়ে দিন। ঢাকা দিয়ে মিডিয়াম আঁচে ৫-৬ মিনিট ভাপে সেদ্ধ করুন। মাঝে একবার নেড়ে দেবেন।

*স্টেপ ৪: ভর্তা করুন*

খোসা নরম হলে ঢাকা খুলে আঁচ বাড়ান। খুন্তি দিয়ে চেপে চেপে ভর্তার মতো করুন। জল শুকিয়ে এলে উপর থেকে ১ চা চামচ কাঁচা সরষের তেল ছড়িয়ে নামান।

বর্ষায় পেটের গন্ডগোল লেগেই থাকে। ঝিঙের খোসার ফাইবার পেট ঠান্ডা রাখে। রসুন-কালোজিরে ইমিউনিটি বাড়ায়। আর সবচেয়ে বড় কথা, সবজির অপচয়ও বন্ধ হয়। পয়সা বাঁচে, স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। পরের বার ঝিঙে আনলে খোসাটা আর ফেলবেন না। কথা দিচ্ছি, একবার খেলে আঙুল চাটবেন।