আমরা সবাই কিছু না কিছু চাই। ভালো চাকরি, সুস্থ শরীর, নিজের বাড়ি, মনের মতো সম্পর্ক। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে একটা বিশাল দেওয়াল থেকে যায়। সেই দেওয়ালটা ভাঙার সবচেয়ে সহজ অস্ত্রটা হয়তো আপনার হাতের কাছেই আছে। সেটা হল আপনার বালিশ। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলে আপনার অবচেতন মন নিজে থেকেই আপনার স্বপ্নের দিকে কাজ করতে শুরু করবে।

আমরা সবাই কিছু না কিছু চাই। ভালো চাকরি, সুস্থ শরীর, নিজের বাড়ি, মনের মতো সম্পর্ক। কিন্তু চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে একটা বিশাল দেওয়াল থেকে যায়। সেই দেওয়ালটা ভাঙার সবচেয়ে সহজ অস্ত্রটা হয়তো আপনার হাতের কাছেই আছে। আর সেটা হল আপনার বালিশ। হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলে আপনার অবচেতন মন নিজে থেকেই আপনার স্বপ্নের দিকে কাজ করতে শুরু করবে। এর নামই "Pillow Method"। এটার জন্য কোনো টাকা লাগবে না, কোনো ক্লাস করতে হবে না। শুধু একটা কাগজ, একটা কলম আর বিশ্বাস লাগবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

অনেকে ভাবেন এটা গাঁজাখুরি। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীরা বলেন আমাদের ব্রেন ঘুমানোর ঠিক আগের ৫ মিনিটে সবচেয়ে বেশি রিসেপটিভ থাকে। দিনের সব চিন্তা, টেনশন তখন একটু থামে। আর সেই সময়ে আপনি ব্রেনকে যে কমান্ডটা দেবেন, অবচেতন মন সারা রাত সেটা নিয়েই কাজ করবে। Law of Attraction ও একই কথা বলে। আপনি মহাবিশ্বকে যে ফ্রিকোয়েন্সিতে সিগন্যাল পাঠাবেন, মহাবিশ্ব আপনাকে তাই ফেরত দেবে।

এবার আসি আসল কাজে। পদ্ধতিটা খুবই সহজ। প্রথমে আপনার ইচ্ছেটাকে একদম জলের মতো পরিষ্কার করুন। "আমি বড়লোক হতে চাই" বললে হবে না। ব্রেন কনফিউজ হয়ে যাবে। বরং বলুন, "আমি আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমার নিজের বিজনেস থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা আয় করছি"। "আমি আমার স্বপ্নের চাকরিটা পেয়ে গেছি"। "আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি"। খেয়াল করুন, সব কথাগুলো Present Tense এ। যেন ঘটনাটা অলরেডি ঘটে গেছে।

এরপর একটা ছোট সাদা কাগজ নিন। তাতে লিখুন "ধন্যবাদ ইউনিভার্স। আমি এখন..." দিয়ে আপনার ইচ্ছেটা। শেষে আবার "ধন্যবাদ"। এই ধন্যবাদ শব্দটা খুব জরুরি। কারণ কৃতজ্ঞতা হল সবচেয়ে হাই ভাইব্রেশনের এনার্জি। যখন আপনি কোনো কিছু পাওয়ার আগেই তার জন্য ধন্যবাদ দেন, তখন মহাবিশ্ব বুঝে যায় জিনিসটা আপনার কাছে অলরেডি আছে।

কাগজে লেখা হয়ে গেলে সেটাকে সুন্দর করে ভাঁজ করুন। আর ঘুমানোর ঠিক আগে সেটা আপনার বালিশের নীচে রেখে দিন। তারপর শুয়ে চোখ বন্ধ করুন। ১ থেকে ২ মিনিট শুধু কল্পনা করুন। মনে করুন আপনার ইচ্ছেটা সত্যি হয়ে গেছে। ফিল করুন সেই আনন্দ, সেই শান্তি, সেই গর্ব। মনে হাসুন। তারপর আর কোনও চিন্তা না করে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে উঠে কাগজটা বের করে ডাস্টবিনে ফেলবেন না। পরের দিন আবার ওই একই কাগজ ব্যবহার করুন।

অনেকে জিজ্ঞেস করেন এটা কাজ করে কেন? উত্তরটা দুই ভাবে দেওয়া যায়। বিজ্ঞানের ভাষায়, আমাদের মস্তিষ্কে RAS নামে একটা সিস্টেম আছে। আপনি যেটার ওপর ফোকাস করেন, ও সারাদিন আপনাকে সেই সংক্রান্ত সুযোগ দেখাতে থাকে। আপনি যদি রোজ "নতুন চাকরি" নিয়ে ভাবেন, তাহলে রাস্তায়, ফোনে, কথায় কথায় চাকরির খবর আপনার কানে আসবেই।

আর আধ্যাত্মিকতার ভাষায়, আপনি যা ভাবেন আর যা বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্ব আপনাকে তাই দেয়। বালিশের নিচের কাগজটা আসলে আপনার অবচেতন মন আর মহাবিশ্বের মধ্যে একটা চুক্তিপত্র।

তবে করার সময় ২-৩টে জিনিস মাথায় রাখতেই হবে। প্রথমত, কখনও নেগেটিভ কথা লিখবেন না। "আমার যেন ঋণ না থাকে" না লিখে লিখুন "আমি ঋণমুক্ত"। দ্বিতীয়ত, অধৈর্য হবেন না। ৩ দিন করে ছেড়ে দিলে রেজাল্ট আসবে না। মিনিমাম ২১ দিন থেকে ৪০ দিন লেগে থাকুন। আর সবচেয়ে জরুরি, শুধু কাগজের ভরসায় বসে থাকবেন না। কাগজ আপনাকে পথ দেখাবে, কিন্তু হাঁটতে হবে আপনাকে। সুযোগ এলে সেটাকে দুই হাতে ধরতে হবে।

বালিশের নিচের কাগজটা কোনো জাদুর কাঠি নয়। এটা আপনার নিজের সাথে করা একটা প্রমিস। রোজ নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া যে "আমি আমার স্বপ্নের জন্য কাজ করছি"।

আজ রাতেই শুরু করুন। দেখুন ৩০ দিন পর আপনার চিন্তা, আপনার কাজ আর আপনার জীবন কতটা বদলে যায়।