বাড়িতে বিড়াল, কুকুর বা পাখি আছে? আর আপনার শিশু কয়েকদিন ধরে অকারণে কাঁদছে, জ্বর আসছে, খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে? এটা সাধারণ ভাইরাল নাও হতে পারে। পোষা প্রাণী থেকেও শিশুদের জুনোটিক ডিজিজ হতে পারে। কোন লক্ষণ দেখলে বুঝবেন? কী টেস্ট করাবেন? বিস্তারিত রইল। অবহেলা করবেন না।

শিশু কাঁদছে? শুধু গ্যাস বা দাঁত নয়, অন্য কারণও থাকতে পারে।

বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে মন ভালো থাকে। কিন্তু ছোট শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় তারা খুব সহজেই প্রাণী থেকে রোগে আক্রান্ত হয়। একে বলে *জুনোটিক ডিজিজ* - অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ানো সংক্রমণ। অনেক সময় শিশু টানা কয়েকদিন কাঁদলে, জ্বর এলে আমরা ভাবি সাধারণ সর্দি-জ্বর। কিন্তু পোষা প্রাণীর সংস্পর্শ থাকলে অন্য দিকটাও মাথায় রাখতে হবে।

*কোন কোন রোগ হতে পারে?*

সবচেয়ে কমন কয়েকটি হল: *র‍্যাবিস, টক্সোপ্লাজমোসিস, সালমোনেলা, বারটোনেলা বা Cat Scratch Fever, ফাঙ্গাল ইনফেকশন।*

*এই ৫টি লক্ষণ দেখলে একদম দেরি করবেন না*

*1. টানা কান্না আর খিটখিটে মেজাজ*

শিশু যদি 3-4 দিন ধরে কারণ ছাড়া কাঁদে, কোলে থাকতেও চায় না, রাতে ঘুম ভেঙে যায় - এটা শরীরে ইনফেকশনের বড় সংকেত হতে পারে। জুনোটিক ইনফেকশনে শিশুর শরীরে অস্বস্তি হয়, তাই সে কেঁদে বোঝায়।

*2. জ্বর যা কমছে না*

101-102 ডিগ্রি জ্বর 3 দিনের বেশি থাকলে এবং প্যারাসিটামলেও না কমলে সাবধান। টক্সোপ্লাজমা বা বারটোনেলা ইনফেকশনে লাগাতার জ্বর থাকে।

*3. পেটের সমস্যা: বমি, ডায়রিয়া*

কুকুর-বিড়ালের সংস্পর্শের পর হাত না ধুয়ে খেলে সালমোনেলা হতে পারে। এর ফলে পেটে ব্যথা, বমি, জলীয় পায়খানা হবে। সাথে শিশু দুর্বল হয়ে পড়বে।

*4. শরীরে র‍্যাশ বা ক্ষত*

বিড়াল বা কুকুর আঁচড় দিলে বা চাটলে সেই জায়গা লাল হয়ে ফুলে যায়। 7-10 দিনের মধ্যে জ্বর আর গ্ল্যান্ড ফুলতে পারে। এটা Cat Scratch Disease এর লক্ষণ।

*5. খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া আর ওজন কমা*

ইনফেকশনের কারণে শিশুর মুখের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই সে দুধ বা খাবার খেতে চাইবে না। কয়েকদিনের মধ্যে চোখে পড়ার মতো ওজন কমে যাবে।

*ডাক্তার কী করবেন?*

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ প্রথমে রক্ত পরীক্ষা করবেন। সাথে প্রয়োজন হলে *CBC, CRP, Toxo IgG-IgM, Rabies antibody, Stool Culture* টেস্ট দিতে পারেন। পোষা প্রাণীর ভ্যাকসিন কার্ডও ডাক্তারকে দেখান।

*বাড়িতে কী সাবধানতা নেবেন?*

- শিশুকে পোষা প্রাণীর পটি বা খাবার ছুঁতে দেবেন না

- খেলার পর সাবান দিয়ে 20 সেকেন্ড হাত ধোয়ান

- পোষা প্রাণীর সব ভ্যাকসিন সময়মতো করান

- শিশুর ঘরে প্রাণীকে ঢুকতে দেবেন না

পোষা প্রাণী ভালোবাসুন, কিন্তু সচেতন থাকুন। শিশুর টানা কান্না, জ্বর আর খাওয়া বন্ধ করা কখনও সাধারণ ব্যাপার নয়। এই লক্ষণ দেখা মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা হলে জুনোটিক ডিজিজ সম্পূর্ণ সেরে যায়।