চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, গাঁটে ব্যথার পেছনে ইউরিক অ্যাসিড ছাড়াও অস্টিওআর্থ্রাইটিস, ভিটামিন D/B12 এর অভাব ও ডিহাইড্রেশনের মতো একাধিক কারণ রয়েছে। এসি সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় না, তবে ঠান্ডা পরিবেশে জয়েন্ট স্টিফনেস বাড়তে পারে। সঠিক কারণ জানতে রক্ত পরীক্ষা অপরিহার্য।
গাঁটে গাঁটে ব্যথা অনুভূত হলেই অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ধারণা করেন, শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়েছে। আবার অনেকে এর জন্য এসিকে দায়ী করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণা আংশিক সত্য হলেও সম্পূর্ণ নয়।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন:
১. ইউরিক অ্যাসিডই একমাত্র কারণ নয়: অর্থোপেডিক সার্জনদের মতে, ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে গাউট বা গাঁটবাত হতে পারে। এক্ষেত্রে পায়ের বুড়ো আঙুল, হাঁটু ও গোড়ালিতে তীব্র ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা যায়। তবে বয়সজনিত অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, চোট-আঘাত বা সংক্রমণের কারণেও একই উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই রক্তে ইউরিক অ্যাসিড, RA ফ্যাক্টর পরীক্ষা ছাড়া রোগ নির্ণয় সম্ভব নয়।
২. এসির ভূমিকা পরোক্ষ: চিকিৎসকরা জানান, এয়ার কন্ডিশনার সরাসরি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ায় না। তবে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের মাংসপেশি ও লিগামেন্ট সংকুচিত হয়। ফলে আগে থেকে জয়েন্টের সমস্যা থাকলে ব্যথা ও স্টিফনেস বেশি অনুভূত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ, ঘরের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা এবং প্রতি ঘণ্টায় কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা।
এসির হাওয়া সরাসরি হাড়ে কোনও প্রভাব ফেলে না। হাড়ের ক্ষয় (Osteoporosis) বা আর্থ্রাইটিসের জন্যেও সরাসরি এসিকে দায়ী করা যায় না। এর কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, আসল সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে মানুষের জীবনযাত্রায় বা আচরণে। এসির ঠান্ডায় একটানা ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা প্রায় কোনও নড়াচড়া না করে ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা বা সেডেন্টারি লাইফস্টাইলই পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং গাঁটে ব্যথার মূল কারণ।
৩. ভিটামিনের ঘাটতি বড় কারণ : সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের শরীরে ভিটামিন D ও B12 এর ঘাটতি রয়েছে। এর ফলেও হাড় ও গাঁটে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান না করলে কিডনি থেকে ইউরিক অ্যাসিড নিষ্কাশন বাধাপ্রাপ্ত হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ: - দিনে কমপক্ষে ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল পান করুন। - এসির সরাসরি বাতাস গায়ে লাগাবেন না। - সকালে ১৫-২০ মিনিট রোদে থাকার অভ্যাস করুন। - ব্যথা ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে বা গাঁট ফুলে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিজে থেকে ব্যথার ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

