Health News: ওজন কমানোর জন্য ডায়েটে ওটস এখন খুবই জনপ্রিয়। তাই অনেক মা-বাবাই ভাবেন, বড়দের ওটস খেলে যদি ওজন কমে, তাহলে শিশুদের খাওয়ানো কি ঠিক হবে? এতে কি তাদেরও ওজন কমে যাবে? পুষ্টিবিদরা বলছেন, এই ভয় সঠিক নয়। বরং ৬ মাসের পর থেকে সঠিক নিয়মে ওটস শিশুদের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ এবং পুষ্টিকর একটি খাবার।

Health News: সকালে জলখাবারে অনেকেই ওটস খান কারণ এটি ফাইবারে ভরপুর এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিন্তু এই কারণেই অভিভাবকদের মনে দ্বিধা তৈরি হয়, বাচ্চাকে ওটস খাওয়ানো কি ঠিক হবে? অভিভাবকেরা ওট্‌স দিয়ে রকমারি খাবার বানিয়ে খাওয়াচ্ছেন শিশুকে ঠিকই আবার অনেকে ওট্‌স থেকে শিশুদের দূরে রাখেন। তাঁদের ধারণা, ওট্‌স তো ওজন ঝরায়, তাই ওট্‌স খেলে শিশুর ওজন কমে যাবে! এই ধারণা কি ঠিক?

শিশুদের ওটস খাওয়ানো কি ঠিক?

হ্যাঁ, একদম ঠিক। চিকিৎসকদের মতে, ৬ মাস বয়সের পর সলিড খাবার শুরু হলে শিশুকে ওটস দেওয়া যায় এবং দেওয়া উচিতও। বড়দের ক্ষেত্রে ওটস ওজন কমাতে সাহায্য করে কারণ এতে থাকা বিটা-গ্লুকান ফাইবার পেট অনেকক্ষণ ভর্তি রাখে, ফলে আমরা কম খাই। কিন্তু শিশুদের শরীরে এর প্রভাব আলাদা। শিশুদের ক্ষেত্রে ওটস ওজন কমায় না, বরং সুষমভাবে ওজন বাড়াতে ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

কেন শিশুদের জন্য ওটস ভালো?

১. ওজন কমায় না, বরং এনার্জি দেয়: ওটসে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট শিশুকে সারাদিন খেলাধুলা ও বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। এটি মোটেও ওজন কমায় না।

২. হজমশক্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: শিশুদের মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা খুব সাধারণ। ওটসের ফাইবার হজম ভালো করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

৩. ব্রেন ও ইমিউনিটি বাড়ায়: ওটসে রয়েছে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম। এগুলি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

৪. সহজপাচ্য ও নিরাপদ: ওটস সহজে হজম হয় এবং এতে অ্যালার্জির ঝুঁকি খুব কম, তাই শিশুদের প্রথম সলিড ফুড হিসেবে এটি আদর্শ।

কীভাবে ও কতটা খাওয়াবেন আপনার শিশুকে?

শিশুদের কখনোই শুধু জলে সেদ্ধ পানসে ওটস দেবেন না। এতে তারা খেতে চাইবে না। ওটসকে পুষ্টিকর করতে এর সঙ্গে ফর্মুলা মিল্ক বা গরুর দুধ (বয়স অনুযায়ী), কলার পিউরি, আপেল সেদ্ধ, খেজুর বা এক চামচ ঘি মিশিয়ে দিন। এতে স্বাদ বাড়বে এবং ওজনও সুষমভাবে বাড়বে। শুরুতে দিনে একবার ২-৩ চামচ থেকে শুরু করুন, তারপর ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়ান।

শিশুদের ওজন শুধু ডায়েটের উপর নয়, মূলত তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। শিশু মোটা হবে না কি রোগা, তা অনেকটাই নির্ভর করে জিনের উপর। তা ছাড়া শিশুর ঘুম ভাল হলে তাদের শারীরিক বিকাশও ভাল হবে। আর যে যত শারীরচর্চা করবে ততই খিদে পাবে, আর ঠিকমতো খাবার খেলে তার বিকাশ ভাল হবে। শিশু যদি কোনও ক্রনিক অসুখ যেমন হাঁপানি বা অ্যালার্জিজনিত কারণে ভোগে, সে ক্ষেত্রেও তার ওজন নাও বাড়তে পারে।

বাজারে অনেক ফ্লেভারড বা চিনি দেওয়া ইনস্ট্যান্ট ওটস পাওয়া যায়, শিশুদের জন্য তা কখনোই কিনবেন না। সবসময় প্লেন, রোলড ওটস কিনুন। কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো শুরু করুন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।