প্রেমে আছেন, কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি প্রেমিকা নন, থেরাপিস্ট, মা, সেক্রেটারি সব একসঙ্গে? সঙ্গীর মুড সামলানো, তার বন্ধুদের জন্মদিন মনে করানো, তার মন খারাপের একমাত্র সঙ্গী হওয়া - সব দায়িত্ব আপনার? এই অদৃশ্য পরিশ্রমেরই নাম ‘Mankeeping’।

প্রেমে আছেন, কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি প্রেমিকা নন, থেরাপিস্ট, মা, সেক্রেটারি সব একসঙ্গে? সঙ্গীর মুড সামলানো, তার বন্ধুদের জন্মদিন মনে করানো, তার মন খারাপের একমাত্র সঙ্গী হওয়া - সব দায়িত্ব আপনার? এই অদৃশ্য পরিশ্রমেরই নাম ‘Mankeeping’। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকরা বলছেন, পুরুষদের বন্ধুত্ব কমে যাওয়ায় মহিলাদের উপর বাড়ছে এই চাপ, যা অজান্তেই শেষ করে দিচ্ছে সম্পর্ক।

আপনার দিনটা কেমন গেল কেউ জিজ্ঞেস করছে না, কিন্তু আপনাকে সারাদিন শুনতে হচ্ছে সঙ্গীর অফিসের স্ট্রেস, তার মন খারাপ, তার বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া? তার জামাকাপড় গোছানো থেকে শুরু করে তার মাকে কবে ফোন করতে হবে - সব আপনাকে মনে করাতে হয়? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি 'Mankeeping' করছেন।

Mankeeping আসলে কী?

এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক Angelica Puzio Ferrara। তিনি 'Kinkeeping' শব্দটি থেকে এটি তৈরি করেছেন। Kinkeeping মানে হলো পরিবারের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার অদৃশ্য কাজ, যা সাধারণত মহিলারাই করেন।

Mankeeping হলো তারই নতুন রূপ। এর মানে হলো, একজন পুরুষের সামাজিক ও মানসিক জীবনের পুরো দায়িত্ব একজন মহিলা নিয়ে নেওয়া, বিনিময়ে কিছু না পেয়েই।

গবেষণা বলছে, আমেরিকায় প্রতি ৫ জন পুরুষের মধ্যে ১ জনের কোনও ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেই। মহিলাদের মতো গভীর বন্ধুত্ব পুরুষদের কম। তাই তারা তাদের সমস্ত মানসিক চাহিদার জন্য একমাত্র সঙ্গীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

আপনি Mankeeping করছেন কীভাবে বুঝবেন? ৫টি লক্ষণ:

১. আপনিই তার একমাত্র থেরাপিস্ট: তার মন খারাপ, রাগ, হতাশা - সব কিছুর জন্য সে শুধু আপনার কাছেই আসে। বন্ধুদের সঙ্গে সে মন খুলে কথা বলে না।

২. তার সোশ্যাল ম্যানেজার আপনি: তার বন্ধুকে জন্মদিনে উইশ করা, তার পরিবারের অনুষ্ঠান মনে করানো, প্ল্যান করা - সব আপনি করেন।

৩. আপনিই সবসময় ঝগড়া মেটান: সম্পর্কে কোনও সমস্যা হলে আপনিই প্রথম 'সরি' বলেন, আপনিই আলোচনা শুরু করেন, সে চুপ করে থাকে।

৪. আপনার ক্লান্তি কেউ দেখে না: আপনি সারাদিন তার আবেগ সামলাতে সামলাতে নিজের জন্য সময়ই পান না। আপনার মানসিক চাপ নিয়ে তার কোনও মাথাব্যথা নেই।

৫. সম্পর্কে আপনি 'আলো' নিয়ে আসার দায়িত্বে: আপনাকে সবসময় পজিটিভ থাকতে হয়, সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য আপনাকেই এনার্জি দিতে হয়।

এর থেকে বেরোবেন কীভাবে?

মনোবিদরা বলছেন, এটা ভালোবাসা নয়, এটা একতরফা ইমোশনাল লেবার। এর ফলে মহিলাদের মধ্যে বিরক্তি, ক্লান্তি এবং একসময় সম্পর্ক থেকে সরে আসার প্রবণতা তৈরি হয়।

সমাধান হলো - কথা বলুন। তাকে বোঝান যে আপনারও সাপোর্ট দরকার। তাকে তার নিজের বন্ধুত্ব তৈরি করতে, নিজের আবেগ নিজে সামলাতে উৎসাহ দিন। মনে রাখবেন, সঙ্গী হওয়া মানে একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের মা বা থেরাপিস্ট হয়ে যাওয়া নয়।