রাতে খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে প্রি-ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি কমে যায়। 'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস' (Scientific Reports) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকরা বলছেন, রাতের খাবারের পর মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাঁটলেই রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বিশেষ করে যদি রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার বেশি থাকে, তাহলে রক্তে সুগারের পরিমাণ হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে।

হাঁটলে আমাদের শরীর খাবারের থেকে পাওয়া গ্লুকোজকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে। ফলে রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ জমতে পারে না। খাওয়ার পর রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়াকে বলা হয় 'পোস্টপ্রান্ডিয়াল গ্লুকোজ স্পাইক' (postprandial glucose spikes)। এর সঙ্গে হৃদরোগ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস, শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকির মতো গুরুতর সমস্যা জড়িয়ে আছে।

আমরা যখন খাবার খাই, তখন তার মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে মিশে যায়। এরপর, ইনসুলিন হরমোন এই গ্লুকোজকে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেয়, যাতে কোষগুলো শক্তি পায়। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটা ঠিকমতো কাজ করে না।

খাওয়ার পর রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু শরীর সেই সুগারকে কত দ্রুত এবং কীভাবে ব্যবহার করছে, তার উপরেই আমাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য নির্ভর করে।

'স্পোর্টস মেডিসিন জার্নাল'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, খাওয়ার পর হাঁটা হলো অন্যতম সেরা ব্যায়াম। এটি শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি (insulin sensitivity) বাড়াতে সাহায্য করে, অর্থাৎ ইনসুলিন আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। গবেষকদের মতে, খাওয়ার পর ১০ থেকে ৩০ মিনিট পর্যন্ত হাঁটা যেতে পারে।

'সায়েন্টিফিক রিপোর্টস' (Scientific Reports) নামের আরেকটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, রাতের খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করলে প্রি-ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।