Tourism News: পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখতে আর দূরে ছুটতে হবে না। পাশের রাজ্য ওড়িশার কেওনঝড় জেলাতেই আছে আমেরিকার হলিউড হিলসের মতো দেখতে পাহাড়। স্থানীয়দের কাছে এখন এটি হলিউড মাউন্টেন নামেই বিখ্যাত। ভোরবেলায় চূড়া থেকে বন, উপত্যকা আর গ্রামীণ প্রকৃতির মাঝে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখতে এখন ভিড় করছেন ভ্রমণপ্রেমীরা।

Tourism: পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় দেখার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। কিন্তু সময় বা বাজেটের অভাবে দূরদূরান্তে যাওয়া হয়ে ওঠে না। সেই সাধ পূরণ করতে এবার পাশের রাজ্য ওড়িশাই হতে পারে আপনার ডেস্টিনেশন। আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার কেন্দুঝর বা কেওনঝড় জেলায় অবস্থিত পাহাড়কে তুলনা করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত হলিউড হিলসের সঙ্গে। এর আকৃতি, সৌন্দর্য ও দূরের ঢালগুলির সঙ্গে হলিউড হিলসের মিল পাওয়ায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মুখে এই পাহাড় এখন হলিউড মাউন্টেন (Hollywood Mountain) নামে পরিচিতি পাচ্ছে। উইকেন্ডে বা শর্ট ট্যুরের জন্য এটি এখন অনেকের কাছেই পছন্দের ডেস্টিনেশন।

কী বিশেষত্ব এই পাহাড়ের?

হলিউড হিলস্ এর প্রধান বিশেষত্ব হল এর চূড়া থেকে দেখতে পাওয়া অপরূপ দৃশ্য। এখানে দাঁড়িয়েই আপনি আশপাশের ঘন বনাঞ্চল, বিস্তীর্ণ উপত্যকা এবং গ্রামীণ ভূপ্রকৃতি দেখতে পাবেন। ভোরবেলায় এই চূড়ায় পৌঁছালে সূর্যোদয়ের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে পৌঁছালে দেখা যায় বিখ্যাত ক্লাউড সি' বা মেঘের সমুদ্র। পুরো উপত্যকা সাদা মেঘে ঢেকে থাকে, তার মাঝ থেকে সূর্য ওঠে। এই কারণেই এটি এখন কেওনঝড়ের জনপ্রিয় সানরাইজ স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তবু এখনও তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হওয়ায় নিরিবিলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য জায়গাটি বেশ ভালো। ভিড়, টিকিট কাউন্টার বা দোকানের ঝামেলা নেই। পাহাড়ের চূড়াটি ট্রেক করার জন্যও উপযুক্ত। ৩০-৪০ মিনিটের মাঝারি ট্রেক, পাথুরে রাস্তা হলেও চূড়ায় উঠলে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।

কীভাবে যাবেন?

কেওনঝড় শহর থেকে মাত্র ৮-১২ কিমি দূরে বসন্তপুরের কাছে তুলসীচাউরা গ্রামে, নারানপুর-দুবুরি রোডের ধারে। গুগল ম্যাপে Hollywood Mountain Keonjhar লিখলেই পেয়ে যাবেন।

কলকাতা থেকে: দূরত্ব ৩৬০ কিমি। গাড়িতে ৭-৮ ঘণ্টা। রাত ১১টায় বেরোলে ভোর ৬টায় পৌঁছে সানরাইজ দেখতে পারবেন। খড়গপুর-বাংরিপোসি-কেওনঝড় রুট।

ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া থেকে জনশতাব্দী ধরে বারবিল নামুন, সেখান থেকে গাড়িতে কেওনঝড় ২ ঘণ্টা।

থাকা-খাওয়া: কেওনঝড় শহরে পান্থনিবাস ও সানা ঘাগরা নেচার ক্যাম্প থাকার জন্য সেরা।

বেস্ট টাইম: জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি। বর্ষায় সবুজ ও মেঘে ঘেরা, শীতে পরিষ্কার ঝকঝকে ভিউ।

সঙ্গে আর কী দেখবেন? একই ট্রিপে ঘুরে নিন সানা ঘাগরা, বড়া ঘাগরা, খান্দাধার জলপ্রপাত, গুন্ডিচাঘাগি ফলস ও মা তারিণী মন্দির।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।