Relationships Tips: এমন কিছু সহকর্মী পাবেনই, যাঁদের কাছে অফিসের কোনও কাজেরই তেমন গুরুত্ব নেই। এঁরা নিজেরা যদি উপরমহলের ‘ব্যাড বুক’-এ জায়গা পায়, তবুও ভ্রূক্ষেপ করে না। এমন কলিগেরা যে শুধু আপনার ইমপ্রেশন খারাপ করবেন, তাই নয়। ভিতর থেকে প্রভাবিত হতে পারে আপনার কর্ম-তৎপরতাও।
Relationships Tips: অফিসে সহকর্মীকে বন্ধু ভাবলেও অনেকেই গোপনে ক্যারিয়ারের ক্ষতি করতে পারেন। বিষাক্ত বা হিংসুক সহকর্মী চেনার মূল লক্ষণ হলো—আপনার অনুপস্থিতিতে গসিপ করা, কাজের ক্রেডিট নেওয়া, অকারণে মিথ্যা অভিযোগ করা, সাফল্যের খবরে ঈর্ষা করা, এবং ব্যক্তিগত তথ্য জেনে তা অপব্যবহার করা । এ ধরনের লোকজনকে চিনতে এবং সামলাতে প্রফেশনাল আচরণ বজায় রাখুন, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার কমান, এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলুন।
গোপনে ক্ষতি করা সহকর্মী চেনার উপায় (signs of a toxic colleague)
* দুখী আচরণ: আপনার সামনে খুব ভালো, কিন্তু আড়ালে আপনার নামে কুৎসা রটায় বা গসিপ করে ।
* সাফল্যে ঈর্ষা: আপনার ভালো কাজে অভিনন্দন না জানিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে বা দুঃখবাদী আচরণ করে।
* কাজের ক্রেডিট চুরি: আপনার করা কঠোর পরিশ্রমের ফল বা সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের নামে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
* তথ্যের অপব্যবহার: আপনার ব্যক্তিগত বা কাজের গোপনীয় তথ্য জানার চেষ্টা করে এবং পরে তা বসের সামনে ব্যবহার করে আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করে।
* অসহযোগিতা ও বাধা: সাহায্য চাওয়ার সময় ব্যস্ততা বা অজুহাত দেখিয়ে এড়িয়ে যায়, আবার কাজের মধ্যে ভুল বা ধ্বংসাত্মক মনোভাব (Sabotage) দেখায়।
* সবসময় শিকারের ভূমিকা (Victim Card): নিজের ভুলের দায় কখনোই নেয় না, সবসময় অন্যদের দোষারোপ করে এবং নিজেকে 'শিকার' হিসেবে তুলে ধরে।
* বিরক্তিকর অভিযোগকারী: সবসময় অফিস, বসের সিদ্ধান্ত বা কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগ করে আপনার কাজের স্পৃহা কমিয়ে দেয়।
কীভাবে সামলাবেন? (How to deal with them):
১. পেশাদারিত্ব বজায় রাখুন: আবেগের বশবর্তী না হয়ে কাজের ক্ষেত্রে প্রফেশনাল থাকুন। ব্যক্তিগত মতভেদ কাজের মধ্যে আনবেন না ।
২. ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার কমান: আপনার ব্যক্তিগত জীবন, পরিকল্পনা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের তথ্য তাদের সাথে শেয়ার করা বন্ধ করুন।
৩. প্রমাণ রাখুন (Document Everything): সব কাজের ইমেইল বা লিখিত প্রমাণ রাখুন, যাতে কাজের ক্রেডিট বা ভুল বোঝাবুঝির সময় নিজের পক্ষ প্রমাণ করা যায় ।
৪. সরাসরি কথা বলুন: যদি কেউ বারবার এমন আচরণ করে, তবে উপযুক্ত সময়ে বসের সামনে না হলেও, একা তাকে ভদ্রভাবে আপনার আপত্তির কথা জানান ।
৫. দূরত্ব বজায় রাখুন: বিষাক্ত পরিবেশ বা ব্যক্তির থেকে নিজের মানসিক শান্তি ও ক্যারিয়ার রক্ষার্থে পেশাদার দূরত্ব বজায় রাখুন।
মনে রাখবেন, কর্মক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব স্বাভাবিক, কিন্তু নিজের কাজ ও আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাটাই আসল সমাধান।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


