পাহাড়ে জলের সংকট মেটাতে এবার বড় ভরসা বাতাস। নদী বা কুয়ো নয়, বাতাসের জলীয় বাষ্প থেকেই তৈরি হচ্ছে খাবার জল। Atmospheric Water Generator প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? কলকাতার সংস্থা Akvo সহ ভারতীয় সেনাও কীভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে লাদাখের মতো দুর্গম এলাকায়, জানুন।

পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে জলের কষ্টের কথা আমরা সবাই জানি। বহু দুর্গম গ্রামে এখনও নদী বা ঝর্ণাই ভরসা, শীতকালে তাও জমে যায়। এবার সেই সমস্যারই অবাক করা সমাধান নিয়ে এসেছে বিজ্ঞান - বাতাস থেকে জল!

কীভাবে বাতাস থেকে তৈরি হচ্ছে জল?

এই প্রযুক্তির নাম Atmospheric Water Generator বা AWG। শুনতে অবাক লাগলেও পদ্ধতিটা খুব সহজ, প্রকৃতির শিশির পড়ার মতোই।

প্রথমে মেশিনটি বাইরের বাতাসকে ভিতরে টেনে নেয় এবং ফিল্টার দিয়ে ধুলোবালি পরিষ্কার করে। তারপর সেই বাতাসকে ঠান্ডা করে তার শিশিরাঙ্কে (Dew Point) নিয়ে আসা হয়, যেমন ঠান্ডা জলের গ্লাসের বাইরে জলের ফোঁটা জমে। তখন বাতাসের জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে জলের ফোঁটায় পরিণত হয়। সেই জলকে পরে UV এবং মিনারেল ফিল্টারে বিশুদ্ধ করে খাবার উপযোগী করা হয়। এক লিটার জল তৈরিতে খরচ মাত্র ৩.৫ টাকা, সোলার পাওয়ার ব্যবহার করলে তা ১.৫ টাকায় নেমে আসে।

পাহাড়ে কীভাবে কাজ করছে এই প্রযুক্তি?

এই প্রযুক্তি এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় সেনার হাত ধরে লাদাখ, সিয়াচেনের মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে পাইপলাইনে জল নিয়ে যাওয়া অসম্ভব। হাওড়ার সংস্থা Akvo এই প্রযুক্তিতে দেশের অন্যতম সেরা। তাদের তৈরি মেশিন দিনে ৫০ লিটার থেকে ১ লক্ষ লিটার পর্যন্ত জল তৈরি করতে পারে।

সমুদ্র উপকূল বা বেশি আর্দ্রতা যুক্ত এলাকায় এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে, ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ও ৮০% আর্দ্রতায় এর কার্যক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। তাই মরুভূমি থেকে পাহাড়, সব জায়গাতেই এখন এই মেশিন ভরসা হয়ে উঠছে।

এই জল কি সত্যিই নিরাপদ?

অনেকের মনে প্রশ্ন, দূষিত বাতাস থেকে তৈরি জল কি নিরাপদ? বিজ্ঞানীরা বলছেন, একদম নিরাপদ। কারণ বাতাস থেকে জল সংগ্রহের পর তা ৫টি ধাপে ফিল্টার করা হয়। ফলে কোনও ধুলো, ব্যাকটেরিয়া বা ক্ষতিকারক কণা থাকে না। এটি ১০০% জীবাণুমুক্ত এবং RO জলের থেকেও বিশুদ্ধ।