জন্মদিনে কেক কাটা আর মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভানো এখন রীতি। কিন্তু কেন এই কাজ করা হয়? এর পিছনে রয়েছে গ্রীক দেবী ও জার্মান রাজাদের ৩০০ বছরের পুরনো ইতিহাস। জানলে চমকে যাবেন।
জন্মদিন এলেই কেক, আর কেকের উপর রঙিন মোমবাতি। তারপর এক ফুঁয়ে নিভিয়ে উইশ করা। ছোট থেকে আমরা সবাই এটাই করে আসছি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, জন্মদিনে কেন মোমবাতি ফুঁ দিয়ে নেভানো হয়? এর পিছনে রয়েছে এক দারুণ ইতিহাস।
*শুরুটা হয়েছিল প্রাচীন গ্রীসে*:
ইতিহাসবিদদের মতে, এই রীতির শুরু প্রাচীন গ্রীসে। গ্রীকরা তাদের চাঁদের দেবী আর্টেমিসের জন্মদিন পালন করত। তারা দেবীর জন্য গোল চাঁদের আকারের কেক বানাত এবং তার উপর মোমবাতি জ্বালাত।
মোমবাতির আলোকে তারা চাঁদের আলোর মতোই পবিত্র মনে করত। তাদের বিশ্বাস ছিল, মোমবাতির ধোঁয়া যখন আকাশের দিকে ওঠে, তখন তা তাদের প্রার্থনা দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। সেই থেকেই কেকের উপর মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করার রীতি শুরু।
*আধুনিক রীতি এসেছে জার্মানি থেকে*:
আজ আমরা যেভাবে জন্মদিন পালন করি, তার আসল রূপ আসে ১৮ শতকের জার্মানি থেকে। সেখানে বাচ্চাদের জন্মদিনকে বলা হতো *Kinderfest*।
জার্মানরা কেকের উপর বাচ্চার বয়সের সমান সংখ্যক মোমবাতি জ্বালাত, আর সঙ্গে একটি বাড়তি মোমবাতি জ্বালাত যেটি ছিল আগামী বছরের জন্য বেঁচে থাকার আশার প্রতীক। সারাদিন মোমবাতি জ্বলত যাতে খারাপ আত্মা কাছে না আসতে পারে। শেষে জন্মদিনের বাচ্চাটি এক ফুঁয়ে সব মোমবাতি নিভিয়ে মনে মনে একটি ইচ্ছে করত। বিশ্বাস ছিল, এক ফুঁয়ে সব মোমবাতি নেভাতে পারলে তার ইচ্ছে পূরণ হবে।
*ধোঁয়াই নিয়ে যায় আমাদের ইচ্ছে*:
প্রাচীনকালে মানুষ আগুনকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করত। বিশ্বাস করা হতো, মোমবাতি নেভানোর সময় যে ধোঁয়া উপরে ওঠে, তা আমাদের মনের গোপন ইচ্ছাকে স্বর্গে নিয়ে যায়। আর মোমবাতি নেভানোর পর সবাই যে জোরে হাততালি দেয়, তারও কারণ আছে। জোরে শব্দ করে অশুভ শক্তিকে তাড়ানোর জন্যই এই হাততালি দেওয়া হয়।


