হাসপাতালের বিলে লাখ টাকা গরমিল হওয়া নতুন নয়। ওষুধ, টেস্ট, রুম ভাড়ার নামে অতিরিক্ত টাকা ধরা হয়। বিল হাতে পেয়েই ৫ টি জিনিস যাচাই করলে আপনি প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারবেন।

হাসপাতালের বিলে লাখ টাকা গরমিল হওয়া নতুন নয়। ওষুধ, টেস্ট, রুম ভাড়ার নামে অতিরিক্ত টাকা ধরা হয়। বিল হাতে পেয়েই ৫ টি জিনিস যাচাই করলে আপনি প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারবেন।

প্রিয়জন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি, আর ছুটির সময় হাতে এলো লম্বা বিল। অনেক সময় সেই অঙ্ক দেখে সন্দেহ হয়, এত টাকা কীভাবে হল? এই সন্দেহ অমূলক নয়। প্রায়ই দেখা যায় হাসপাতালের বিলে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, বেশি দামের ওষুধ বা অতিরিক্ত চার্জ যোগ করা হয়। তাই বিল পেমেন্ট করার আগেই কিছু জিনিস যাচাই করা জরুরি।

প্রথমত, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে বিল মেলান। বিলে যতগুলো ওষুধ, ইনজেকশন, স্যালাইন লেখা আছে, তার সবকটা ডাক্তার লিখেছিলেন কি না দেখুন। অনেক সময় ব্যবহার না হওয়া গ্লাভস, মাস্কের দামও ধরে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয়ত, রুম বা বেড ক্যাটাগরি। আপনি যদি জেনারেল বেড বুক করেন, কিন্তু বিলে ডিলাক্স রুমের চার্জ ধরা হয়েছে কি না দেখুন। রুমের ভাড়া বাড়লে ডাক্তারের ভিজিট, নার্সিং চার্জ সবই বাড়ে।

তৃতীয়ত, ডুপ্লিকেট টেস্ট। একই রক্ত পরীক্ষা বা এক্স-রে দুবার ধরা হয়েছে কি না দেখুন। অনেক হাসপাতাল বাইরে থেকে টেস্ট করালেও নিজেদের ল্যাবে আবার টেস্টের টাকা ধরে।

চতুর্থত, ডিসকাউন্ট ও ইন্স্যুরেন্স। আপনার হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা TPA কার্ডে ক্যাশলেস সুবিধা আছে কি না, কোন ওষুধে MRP-র উপর ছাড় পাবেন, সেটা আগে জেনে নিন। সরকারি নিয়মে হাসপাতাল MRP-র বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করতে পারে না।

পঞ্চমত, ব্রেক-আপ বিল চান। শুধু মোট টাকা নয়, বিস্তারিত ব্রেক-আপ বিল চান যেখানে প্রতিটি খরচ আলাদা করে লেখা থাকবে। সন্দেহ হলে হাসপাতালের বিলিং ডিপার্টমেন্টে লিখিতভাবে আপত্তি জানান এবং প্রয়োজনে IRDAI বা কনজিউমার ফোরামে অভিযোগ করতে পারেন। মনে রাখবেন, বিল যাচাই করা আপনার অধিকার।