গরমে ত্বকের সতেজতা বজায় রাখতে কেবল বাইরে থেকে যত্ন নেওয়াই যথেষ্ট নয়, শরীরের ভিতর থেকেও পুষ্টি প্রয়োজন। সে জন্য খেতে হবে এমন কিছু পানীয় যা ত্বককে ভিতর থেকে সজীব করে তোলে। ফলের রস এ ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। তবে তা বানাতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে।

ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পেতে নিয়মিত ফলের শরবত অত্যন্ত কার্যকরী। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ফল ও উপাদান মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে, মৃতকোষ দূর হয় এবং ত্বক আর্দ্র থাকে।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী শরবতের তালিকা:

* তৈলাক্ত ও ব্রণপ্রবণ ত্বক: লেবু ও পুদিনা পাতার শরবত বা আমলকির রস খুবই ভালো। এগুলি ত্বকের বাড়তি তেল নিয়ন্ত্রণ করে।

* শুষ্ক ত্বক: পেঁপে, আম বা কলার স্মুথি উপকারি। এগুলি ত্বককে আর্দ্র ও নমনীয় রাখে।

* নিস্তেজ ও ফ্যাকাসে ত্বক: তরমুজ, কমলালেবু বা বেদনার রস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা ত্বক উজ্জ্বল করে।

কোন ফলের সঙ্গে কী মেশাবেন?

তরমুজ ও শসা(সব ধরনের ত্বক):

৯২% জলযুক্ত তরমুজ ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। সমপরিমাণ তরমুজ ও শসার পাল্প মিশিয়ে নিন। এটি ট্যান দূর করতে ও ত্বক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

আমলকি, ধনে পাতা ও পুদিনা(তৈলাক্ত ত্বক):

শসা, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, আমলকির টুকরো ও সামান্য জিরে গুঁড়ো ও জলের সাথে ব্লেন্ড করে নিন। এটি ত্বক পরিষ্কার রাখে ও দাগছোপ কমায়।

কমলালেবু ও মধু: (উজ্জ্বল ত্বকের জন্য) ভিটামিন সি সমৃদ্ধ কমলালেবু কোলাজেন বাড়ায়। কমলার রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে খেলে ত্বক তারুণ্যদীপ্ত হয়।

পেঁপে ও দই: (মৃতকোষ দূর করতে)পাকা পেঁপেতে প্যাপেইন এনজাইম থাকে। পেঁপের পাল্পের সাথে টক দই মিশিয়ে স্মুথি বানিয়ে খেলে ত্বক দাগহীন হয়।

বেদনা ও বিট: (রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে) বেদনার রসের সাথে বিটের রস মেশালে ত্বকে তাৎক্ষণিক জেল্লা আসে, কারণ এটি রক্ত পরিষ্কার রাখে।

বিশেষ টিপস:

* শরবতে চিনির পরিবর্তে মধু বা গুড় ব্যবহার করুন।

* ভালো ফলের জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানীয়গুলি খেতে পারেন।

* ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত প্রচুর জল পান করুন।