অনেকেই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, যার প্রধান কারণ হতে পারে সকালের জলখাবার বাদ দেওয়া। রাতে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর সকালে পাকস্থলী অ্যাসিড তৈরি করে, কিন্তু খাবার না পেলে সেই অ্যাসিডই বুকে জ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এই সমস্যায় পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসে। এর ফলে বুকে জ্বালা, পেট ফোলা বা বমি বমি ভাবের মতো লক্ষণ দেখা যায়।

সাধারণত ঝাল-মশলাযুক্ত খাবার, কফি বা মানসিক চাপকে এর জন্য দায়ী করা হয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, এর পিছনে আরও একটি বড় কারণ আছে। গবেষণা বলছে, সকালের জলখাবার বা ব্রেকফাস্ট না খাওয়ার অভ্যাসই অ্যাসিডিটির অন্যতম প্রধান কারণ।

রাতে প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা না খেয়ে থাকার পর, সকালে আমাদের শরীর খাবারের জন্য তৈরি থাকে। পাকস্থলী খাবার হজম করার জন্য অ্যাসিড তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু যখন কেউ ব্রেকফাস্ট করেন না, তখন এই অ্যাসিডগুলো কোনও কাজ পায় না। ফলে, এই অ্যাসিড পাকস্থলীর লাইনিং বা ভেতরের স্তরে জ্বালা সৃষ্টি করে, যা থেকে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা শুরু হয়। অন্যদিকে, স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট খেলে এই অ্যাসিড প্রশমিত হয় এবং খাবার হজমে সাহায্য করে।

সকালের খাবার বাদ দিলে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি ব্যাহত হয় এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড জমতে শুরু করে, যা অস্বস্তির কারণ হয়। পাকস্থলী হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড তৈরি করতেই থাকে, যা ভেতরের স্তরে জ্বালা বাড়ায়। এর ফলে প্রচণ্ড খিদে পেলে পাকস্থলী সংকুচিত হতে পারে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিড খাদ্যনালীর দিকে ঠেলে দেয়। অনিয়মিত খাওয়ার কারণে মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যেতে পারে।

শুধু অ্যাসিডিটি নয়, ব্রেকফাস্ট না খেলে অ্যাংজাইটি ও ডিপ্রেশনের ঝুঁকিও বাড়ে। দিনের শুরুতে খাবার না খেলে পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। ঠিকমতো খাবার না খেলে সারাদিনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া যায় না। আর শরীরে শক্তি কম থাকলে তার প্রভাব কাজের উপরেও পড়তে পারে।