রোজ রোজ একঘেয়ে পকোড়া, চপ খেয়ে বোর? মাত্র ১৫ মিনিটে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন দোকানের মতো নরম তুলতুলে, টক-ঝাল-মিষ্টি দই ফুলকি। রইল সহজ রেসিপি।
রোজ রোজ একঘেয়ে পকোড়া, চপ খেয়ে বোর? মাত্র ১৫ মিনিটে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন দোকানের মতো নরম তুলতুলে, টক-ঝাল-মিষ্টি দই ফুলকি। রইল সহজ রেসিপি।
বিকেল ৫টা বাজলেই মনটা কেমন চা আর মুচমুচে কিছু খাবারের জন্য আনচান করে, তাই না? বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরে বায়না করে, বড়রাও অফিস থেকে ফিরে চায়ের সঙ্গে একটু অন্যরকম টিফিন। রোজ রোজ আলুর চপ, পেঁয়াজি বা বিস্কুট খেয়ে মুখে একঘেয়েমি চলে এসেছে? তাহলে এবার ট্রাই করুন উত্তর ভারতের জনপ্রিয় কিন্তু বাংলার হেঁশেলে একেবারে নতুন স্বাদ - দই ফুলকি। অনেকে একে দই পকোড়া বা দহি ফুলকিও বলেন।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ বড়া ভিজানো, কিন্তু মুখে দিলেই বুঝবেন এর জাদু। উপরে মুচমুচে বেসনের ফুলকি, ভিতরে নরম তুলতুলে আর ঠান্ডা ঠান্ডা টক দইয়ের ক্রিমি লেয়ার, তার সঙ্গে ঝাল তড়কার ছোঁয়া - একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি বানাতে সময় লাগে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিট, আর ঘরের থাকা সামান্য উপকরণেই হয়ে যায়।
ফুলকি বানানোর জন্য লাগবে - ১. ২ কাপ বেসন ২. ১ কাপ মিহি করে কাটা পেঁয়াজ কুচি ৩. কাঁচা লঙ্কা কুচি - স্বাদ মতো ৪. স্বাদ মতো নুন ৫. ১ চা চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো - সুন্দর রঙের জন্য ৬. ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো ৭. ১ চা চামচ জিরে পাউডার ৮. এক চিমটে বেকিং সোডা - ফুলকি ফোলা ফোলা করার জন্য ৯. ভাজার জন্য পরিমাণ মতো সাদা তেল ও জল
দইয়ের মিশ্রণের জন্য - ১. ৩০০ গ্রাম টক দই - একটু টাটকা দই হলে ভালো হয় ২. স্বাদ মতো বিট নুন ৩. ১ চা চামচ চিনি - টক ভাব ব্যালেন্স করার জন্য ৪. ২-৩ চামচ দুধ - দইটা ক্রিমি করার জন্য ৫. ১ চা চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো
তড়কার জন্য - ১. ১ চা চামচ সাদা তেল ২. ১ চা চামচ রসুন কুচি ৩. ২ টো শুকনো লঙ্কা ৪. ৮-১০ টা কারি পাতা
বানানোর পদ্ধতি - স্টেপ বাই স্টেপ:
প্রথম ধাপ - মুচমুচে ফুলকি তৈরি: প্রথমে একটি বড় বাটিতে ২ কাপ বেসন নিয়ে তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, নুন, হলুদ গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো, জিরে পাউডার দিয়ে শুকনো অবস্থায় ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার অল্প অল্প করে জল দিয়ে একটি ঘন ব্যাটার তৈরি করুন। ব্যাটার খুব পাতলা করবেন না, পকোড়ার ব্যাটারের মতো ঘন রাখবেন। শেষে এক চিমটে বেকিং সোডা দিয়ে হালকা হাতে ফেটিয়ে নিন। এতে ফুলকি ভিতর থেকে ফাঁপা ও নরম হবে।
কড়াইতে সাদা তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে হাত দিয়ে বা চামচ দিয়ে ছোট ছোট গোল গোল বড়ার আকারে তেলে ছাড়ুন। মাঝারি আঁচে লালচে সোনালী করে ভেজে তুলুন। একসঙ্গে বেশি দেবেন না, তাহলে তেল ঠান্ডা হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপ - দইয়ের ক্রিমি মিশ্রণ: অন্য একটি পাত্রে টক দই নিয়ে হ্যান্ড হুইস্ক দিয়ে ২ মিনিট ভালো করে ফেটিয়ে নিন, যাতে কোনও দলা না থাকে। এবার এর মধ্যে ২-৩ চামচ দুধ, বিট নুন, চিনি, ভাজা জিরে গুঁড়ো দিয়ে আবার মিশিয়ে নিন। দইটা যেন একেবারে মসৃণ ও ক্রিমি হয়। চাইলে এখানে একটু ধনে গুঁড়োও দিতে পারেন।
তৃতীয় ধাপ - ফুলকি নরম করার কৌশল: এটাই হল দই ফুলকির আসল সিক্রেট। একটি বড় বাটিতে হালকা গরম জল নিয়ে তাতে এক চিমটে নুন দিন। এবার ভাজা গরম ফুলকি গুলো ওই জলে ২-৩ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। দেখবেন ফুলকি গুলো ফুলে দ্বিগুণ হয়ে গেছে আর ভিতরের অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে গেছে। এবার একটা একটা করে তুলে হাতের তালুতে হালকা চেপে জল বের করে সরাসরি ফেটানো দইয়ের মধ্যে দিয়ে দিন। ১০-১৫ মিনিট দইয়ে ভিজতে দিন, তাহলে দইয়ের টক মিষ্টি স্বাদ ফুলকির ভিতরে ঢুকে যাবে।
চতুর্থ ধাপ - তড়কা - স্বাদের জাদু: ছোট একটি তড়কা প্যানে ১ চামচ তেল গরম করে তাতে রসুন কুচি, শুকনো লঙ্কা আর কারি পাতা দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ভাজুন। রসুনের সুন্দর গন্ধ বেরোলেই গ্যাস বন্ধ করে এই তড়কাটা দই ফুলকির উপর ঢেলে দিন।
ব্যাস, তৈরি আপনার দোকানের মতো অতুলনীয় স্বাদের দই ফুলকি। উপর থেকে আরেকটু ভাজা জিরে গুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো আর কুচানো ধনেপাতা ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। সন্ধ্যের চায়ের আড্ডা বা বাচ্চাদের টিফিন, দুটোতেই হিট হবে এই রেসিপি।
