১০ জানুয়ারি বিশ্ব হিন্দি দিবস পালিত হয়, যা হিন্দি ভাষার বিশ্বব্যাপী প্রচারকে সম্মান জানায়। ২০২৬ সালের থিম হল ‘হিন্দি: ঐতিহ্যগত জ্ঞান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত’, যা ভাষার ঐতিহ্যবাহী শিকড় এবং প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের মেলবন্ধনকে তুলে ধরে। 

বিশ্ব হিন্দি দিবস ২০২৬ হল এই ভাষার বিশ্বব্যাপী পরিচিতি উদযাপনের দিন। প্রতি বছর ১০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে এই দিনটি পালিত হয়। এই দিনটি শুধু হিন্দি ভাষার সম্মানের দিন নয়, বরং এটি হিন্দির পরিবর্তনশীল ভূমিকা, তার বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এবং ডিজিটাল যুগে তার ক্রমবর্ধমান শক্তিকেও তুলে ধরে। আজ হিন্দি সাহিত্য, সিনেমা, সোশ্যাল মিডিয়া, প্রযুক্তি এবং কূটনীতিতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। এই কারণেই বিশ্ব হিন্দি দিবস ২০২৬ আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব হিন্দি দিবস কেন পালিত হয়?

বিশ্ব হিন্দি দিবস, যা ইংরেজিতে ওয়ার্ল্ড হিন্দি ডে নামে পরিচিত, হিন্দি ভাষার আন্তর্জাতিক প্রচার ও প্রসারের জন্য উৎসর্গীকৃত একটি বিশ্বব্যাপী দিবস। অনেকেই এটিকে ১৪ সেপ্টেম্বরের হিন্দি দিবসের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন, কিন্তু দুটি দিবস আলাদা। হিন্দি দিবস শুধুমাত্র ভারতে পালিত হয়। অন্যদিকে, ১০ জানুয়ারি পালিত বিশ্ব হিন্দি দিবসের উদ্দেশ্য হল বিশ্ব মঞ্চে হিন্দিকে শক্তিশালী করা। এই দিনে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় দূতাবাস, বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় হিন্দি সম্পর্কিত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিশ্ব হিন্দি দিবসের ইতিহাস, কীভাবে শুরু হয়েছিল?

বিশ্ব হিন্দি দিবসের ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল ১০ জানুয়ারি ১৯৭৫ সালে, যখন নাগপুরে প্রথম বিশ্ব হিন্দি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের পণ্ডিত, ভাষাবিদ এবং প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন, যারা হিন্দিকে আন্তর্জাতিক স্তরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। এই ঐতিহাসিক দিনটির স্মরণে ভারত সরকার ২০০৬ সালে ১০ জানুয়ারিকে বিশ্ব হিন্দি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। তখন থেকে প্রতি বছর এই দিনটি হিন্দির বিশ্বব্যাপী যাত্রা এবং তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে সম্মান জানাতে পালিত হয়।

হিন্দির বিশ্বব্যাপী পরিচিতি

আজ হিন্দি বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক কথ্য ভাষা হয়ে উঠেছে। ভারত ছাড়াও নেপাল, মরিশাস, ফিজি, সুরিনাম, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, আমেরিকা, ব্রিটেনের মতো দেশেও বিপুল সংখ্যক হিন্দিভাষী মানুষ রয়েছেন। বিশ্ব হিন্দি দিবস ২০২৬ এই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করে। বিদেশে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের জন্য হিন্দি তাদের দেশের সঙ্গে সংযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। এই দিনটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে জুড়তে এবং পরবর্তী প্রজন্মকে হিন্দি শেখাতে অনুপ্রাণিত করে। ডিজিটাল যুগে ইংরেজির প্রভাব দ্রুত বাড়লেও, বিশ্ব হিন্দি দিবস ২০২৬ তরুণদের উপলব্ধি করায় যে হিন্দিও কেরিয়ার, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তির ভাষা হতে পারে।

বিশ্ব হিন্দি দিবস ২০২৬-এর থিম কী?

প্রতি বছর বিশ্ব হিন্দি দিবস একটি বিশেষ থিমের সঙ্গে পালিত হয়। ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দি দিবসের থিম রাখা হয়েছে ‘হিন্দি: ঐতিহ্যগত জ্ঞান থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত’। এই থিমের উদ্দেশ্য হল এটা বোঝানো যে হিন্দি শুধু একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক ভাষাই নয়, বরং প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের জগতেও দ্রুত নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। আজ হিন্দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই দিকে সরকারও হিন্দিকে কোডিং, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা করছে, যাতে এই ভাষা ডিজিটাল যুগে আরও শক্তিশালী হতে পারে।