প্রতিদিন বালতি বালতি এসির জল ফেলে দিচ্ছেন? এই জলই হতে পারে আপনার বাগানের জন্য আশীর্বাদ। তবে ব্যবহারের ভুল পদ্ধতিতে মরে যেতে পারে প্রিয় গাছটিও।
গ্রীষ্মকাল মানেই এসির একটানা ব্যবহার এবং তার সঙ্গে পাইপ দিয়ে অনবরত জল পড়া। আমরা অধিকাংশ মানুষই সেই জলটাকে নোংরা বা ব্যবহারের অযোগ্য ভেবে ফেলে দিই। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনি যে জলটা ফেলে দিচ্ছেন, সেটা আসলে আপনার কলের জলের চেয়েও অনেক বেশি বিশুদ্ধ হতে পারে? বাগানপ্রেমীদের মধ্যে এই নিয়ে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে যে এসির জল গাছে দেওয়া উচিত কি না। আজ সেই ধোঁয়াশাই পরিষ্কার করা যাক।
আসলে এসির জল কী, তা আগে বুঝতে হবে। এসি যখন ঘরের গরম বাতাসকে টেনে ঠান্ডা করে, তখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ঠান্ডা কয়েলের সংস্পর্শে এসে জলে পরিণত হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে কনডেনসেট ওয়াটার বলে। এটি মূলত ডিস্টিলড ওয়াটারের মতোই, অনেকটা বৃষ্টির জলের মতো বিশুদ্ধ। সাধারণ পৌরসভার জলে বা টিউবওয়েলের জলে প্রচুর পরিমাণে ক্লোরিন, ফ্লোরাইড, লবণ এবং আয়রন থাকে, যা দীর্ঘদিন ধরে টবের মাটিতে জমতে জমতে মাটিকে শক্ত করে দেয় এবং গাছের শিকড়ের ক্ষতি করে। কিন্তু এসির জলে এই ধরনের কোনও ক্ষতিকারক খনিজ বা রাসায়নিক থাকে না। তাই তাত্ত্বিকভাবে এটি গাছের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ এবং নরম জল, যা গাছ খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে।
তবে এই ভালোর পিছনেও কিছু লুকোনো বিপদ রয়েছে, যা না জানলে আপনার শখের গাছটি মরেও যেতে পারে। প্রথম এবং প্রধান সমস্যা হল তাপমাত্রা। এসি থেকে বেরোনো জল বরফের মতো ঠান্ডা থাকে। আপনি যদি সেই ঠান্ডা জল সরাসরি গাছের গোড়ায় ঢেলে দেন, তাহলে গাছের শিকড় হঠাৎ করে ঠান্ডায় শক পাবে। মানুষের মতো গাছেরও ঠান্ডা-গরমের অনুভূতি আছে। এই থার্মাল শকের কারণে গাছের বৃদ্ধি থমকে যেতে পারে, পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা সবসময় বলেন, এসির জল সরাসরি ব্যবহার না করে একটি বালতিতে জমিয়ে অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা রেখে দিন, যাতে জল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে।
দ্বিতীয় বড় সমস্যাটি হল পরিচ্ছন্নতা। আপনার এসির ভিতরের ফিল্টার যদি মাসের পর মাস পরিষ্কার না করা হয়, তাহলে সেই ফিল্টারে জমে থাকা ধুলো, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং অ্যালার্জেন সবই জলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। সেই দূষিত জল যদি আপনি গাছে দেন, তাহলে টবের মাটিতে ফাঙ্গাল ইনফেকশন দেখা দেবে এবং গাছের গোড়া পচে যেতে শুরু করবে। তাই এসির জল গাছে দেওয়ার আগে নিশ্চিত করুন যে আপনার এসি সার্ভিসিং করা এবং ফিল্টার পরিষ্কার।
শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটি হল, এসির জলে কোনও পুষ্টিগুণ নেই। এটি একেবারে শূন্য জল। গাছের বেঁচে থাকার জন্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়ামের মতো খনিজ দরকার, যা সাধারণ জলে সামান্য পরিমাণে থাকে কিন্তু এসির জলে একেবারেই থাকে না। তাই আপনি যদি দিনের পর দিন শুধু এসির জলই গাছে দিতে থাকেন, তাহলে গাছ ধীরে ধীরে অপুষ্টিতে ভুগে দুর্বল হয়ে পড়বে। সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল, সপ্তাহে দুদিন এসির জল এবং বাকি দিনগুলোতে সাধারণ জল এবং মাসে একবার জৈব সার ব্যবহার করা। বিশেষ করে মানি প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, অ্যারিকা পাম, পিস লিলির মতো ইনডোর গাছের জন্য এই জল দারুণ কাজ করে।
