BAN vs PAK: পাকিস্তান ক্রিকেটের হাল ঠিক কতটা শোচনীয় তা ফের প্রমাণ হল। দেশের মাটির পর এবার অ্যাওয়ে সিরিজেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে হেরে গেল পাকিস্তান। দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ২-০ হারিয়ে নজির গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তো-র দল।

BAN vs PAK: পাকিস্তান ক্রিকেটের হাল ঠিক কতটা শোচনীয় তা ফের প্রমাণ হল। দেশের মাটির পর এবার অ্যাওয়ে সিরিজেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্টে হেরে গেল পাকিস্তান। দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ২-০ হারিয়ে নজির গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তো-র দল। ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের। সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের দখলে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। বুধবার ম্যাচের পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই পাকিস্তানকে অলআউট করে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। এটাই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়। এর আগে পাকিস্তানকে পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল পদ্মাপাড়ের দেশ। এই জয়ের সঙ্গে আরও একটি ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। টানা চারটি টেস্ট সিরিজ জয়ের নজির তৈরি করল তারা, যা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

নায়ক তাইজুল, ট্র্যাজিক নায়ক রিজওয়ান

৪৩৭ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করেছিল পাকিস্তান। আগের দিন ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল তারা। তবে শেষ দিনে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে আর দাঁড়াতে পারেনি সফরকারীরা। ৩২৮ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই তুলে নেন ৬ উইকেট। ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তাঁর বোলিং হিসাব দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১২০ রান। আগের দিনই চার উইকেট তুলে পাকিস্তানকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি। বুধবার দিনের শুরুতেই সাজিদ খানকে ফিরিয়ে নিজের ১৮তম টেস্ট পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল। সাজিদ ২৮ রান করেন। মহম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন তিনি।

খারাপ ব্যাটিংয়েই ডুবল পাকিস্তান

পাকিস্তানের হয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান উইকেটরক্ষক ব্যাটার মহম্মদ রিজওয়ান। ১৬৬ বলে ৯৪ রানের সাহসী ইনিংস খেলেন তিনি। তবে শরিফুল ইসলামের বলে ক্যাচ আউট হয়ে ফিরতেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় পাকিস্তান। শেষ উইকেট হিসেবে খুররম শাহজাদকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন তাইজুল। এই টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তাইজুল। তিনি ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ৬৭ রানে। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় ২৩২ রানে।

অনবদ্য লিটন দাস

বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ব্যাটাররাও। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের ১২৬ রানের দুরন্ত ইনিংস এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রান দলকে শক্ত ভিত দেয়। ম্যাচে ব্যাট ও ফিল্ডিং দুই বিভাগেই উজ্জ্বল ছিলেন লিটন দাস। বাবর আজমের দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেও নজর কাড়েন তিনি। সেই কারণেই ম্যাচের সেরার পুরস্কার ওঠে তাঁর হাতে। অন্যদিকে সিরিজ সেরার সম্মান পান মুশফিকুর রহিম। দুই টেস্ট মিলিয়ে তাঁর সংগ্রহ ২৫৩ রান। প্রথম টেস্টেও বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয় পেয়েছিল। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল মাহমুদুল হাসান জয়ের ৫২ এবং লিটনের ৬৯ রানের ইনিংস।

ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের কী বললেন বাংলাদেশের অধিনায়ক

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, দলের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল চাপের মুহূর্তে মানসিক স্থিরতা ধরে রাখা। আগের তুলনায় ক্রিকেটাররা অনেক বেশি সংযত ও আত্মবিশ্বাসী ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের পরিশ্রম ও অবদানের প্রশংসাও করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতেও ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠেও একই ফলাফল এনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল টাইগাররা।