তৃতীয় দিনের শেষে ইডেনে জমজমাট রঞ্জি সেমিফাইনাল রঞ্জি ফাইনালে পৌছতে বাংলার দরকার ৭ উইকেট কর্ণাটকের জয়ের জন্য দরকার ২৫৪ রান চতুর্থ দিনে টানটান লড়াইয়ের অপেক্ষায় ইডেন গার্ডেন্স

তৃতীয় দিনের শেষে ইডেনে জমজমাট বাংলা বনাম কর্ণাটক রঞ্জি সেমিফাইনাল ম্যাচ। এখনও পর্যন্ত অ্যাডভান্টেজ বাংলা হলেও, ম্যাচে প্রানপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে কর্ণাটক। প্রথম ইনিংসে অনুষ্টুপ মজুমদারের ১৪৯ রানের দুরন্ত ইনিংস ও বোলিংয়ে ইশান পোড়েল, আকাশ দীপ ও মুকেশ কুমারদের আগুনে বোলিংয়ের সৌজন্যে ১৯০ রানের লিড পায় বাংলা দল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ বাংলার টপ অর্ডার। দ্বিতীয় দিনেই প্যাভেলিয়নে ফিরে যান অভিষেক, মনোজ, অভিমূন্য,অর্ণবরা। কিছুটা লড়াই চালালেও তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মোড়ের বলে এববিডব্লুউ আউট হন সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। এরপরই খাতা না খুলেই মোড়ের শিকার হন বাংলার উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান শ্রীবৎস গোস্বামী। এরপর দলের রাশ ফের কিছুটা সামাল দেন অনুষ্টুপ মজুমদার ও শাহবাজ আহমেদ। কিন্তু এবার বড় রান গড়তে ব্যর্থ হন দুজন। গৌথমের শিকার হন অনুষ্টুপ ও শাহবাজ। এরপর টেলেন্ডারদের ফেরাতে খুব একটা সময় নেয়নি কর্ণাটকের বোলিং অ্যাটাক। ১৬১ রানের শেষ হয়ে যায় বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস। প্রথম ইনিংসে ১৯০ রানের লিডের সৌজন্যে কর্ণাটককে ৩৫২ রানে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কোচ অরুণ লালের বাংলা। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আরও পড়ুনঃ কোহলির ব্যাটে অব্যাহত রানের খরা, টেকনিক সংশোধনের পরামর্শ লক্ষ্মণের

হাতে সময় থাকলেও, ৩৫২ রান যে ইডেনের সবুজ উইকেটে খুব একটা সহজ টার্গেট নয় তা ভালই বুঝতে পেরেছিল কর্নাটকের অধিনায়ক করুণ নায়ার। দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই কে এল রাহুলের উইকেট অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দেয় কর্ণাটক দলকে। ইশান পোড়েলের বলে এলবিডব্লুউ আউট হয়ে ফেরত যান ভারতীয় ক্রিকেটের এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। একদিকে শুরুতেই দলের প্রধান উইকেট হারানোর চাপ অন্যদিকে হাতে প্রায় আড়াই দিন সময়, দুই কারণে দলকে ধীরে চলার নির্দেশ দেন কর্ণাটক টিম মেনেজমেন্ট। নির্দেশ মতে কোনও ঝুঁকি না নিয়েই ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রবিকুমার সামার্থ ও দেবদূত পাড্ডিকল।দ্বিতীয় উইকেটে ৫৭ রানের পার্টনারশিপ করেন দুই ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত ২৭ রানে রবিকুমার সামার্থকে এলবিডব্লুউ আউট করেন আকাশ দীপ। ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে পারেননি কর্ণাটক অধিনায়ক করুণ নায়ারও। ৬ রানেই তাকে প্যাভেলিয়নে ফেরত পাঠান মুকেশ কুমার। যদিও একদিকে থেকে নিজের উইকেট ধরে রাখেন দেবদূত পাড্ডিকল। এরপর একাধিক চেষ্টা করলেও আর কোনও উইকেটে পড়েনি কর্ণাটকের। তৃতীয় দিনের শেষে কর্ণাটকের স্কোর ৩ উইকেটে ৮৪। ৪৫ রানে অপারজিত রয়েছেন দেবদূত পাড্ডিকল ও ৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন মণীশ পাণ্ডে। 

আরও পড়ুনঃ গোকুলামকে হারিয়ে বদলা নিতে মরিয়া ইষ্টবেঙ্গল, রক্ষণ নিয়ে চিন্তায় লাল-হলুদ কোচ

আরও পড়ুনঃ সাংবাদিক সম্মেলনেই মেজাজ হারালেন বিরাট, প্রশ্ন শুনে সাংবাদিককে তুলোধনা

হাতে এখনও রয়েছে ২ দিন। কর্ণাটকের জয়ের জন্য দরকার ২৫৪ রান। আর রঞ্জির ফাইনালে পৌছতে বাংলার দরকার ৭ উইকেট। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে ম্যাচে অ্যাডভান্টেজ বাংলা হলেও, একটা বড় পার্টনারশিপ ম্যাচে মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে কর্ণাটকের দিকেও। ফলে চতুর্থ দিনে ব্যাটে-বলে টানটান লড়াইয় দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটের নন্দন কানন।