IPL FEMA Case: ২০০৯ সালের আইপিএল মামলায় বড়সড় স্বস্তি পেল BCCI এবং ললিত মোদী। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) চাপানো বেশিরভাগ জরিমানা এবং অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে SAFEMA-র অধীনে থাকা অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল। তবে দুটি ছোট ক্ষেত্রে BCCI-এর উপর জরিমানা বহাল রাখা হয়েছে।
IPL FEMA Case: সাফেমা (Smugglers and Foreign Exchange Manipulators - Forfeiture of Property - Act) আইনের অধীনে থাকা অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনাল বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI), আইপিএলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ললিত মোদী এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের বড়সড় স্বস্তি দিয়েছে। ২০০৯ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত আইপিএল সংক্রান্ত FEMA মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) বেশিরভাগ অভিযোগ এবং জরিমানা ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দিয়েছে।
FEMA মামলার প্রেক্ষাপট
মামলাটি ছিল ২০০৯ সালের আইপিএল নিয়ে, যা লোকসভা নির্বাচনের কারণে ভারত থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ED-র অভিযোগ ছিল, টুর্নামেন্ট আয়োজন করার জন্য বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে BCCI ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA) লঙ্ঘন করেছে। এই অভিযোগে ED BCCI এবং তার তৎকালীন পদাধিকারীদের ওপর কোটি কোটি টাকার জরিমানা চাপিয়েছিল। চেয়ারম্যান বিচারপতি মুনিশ্বর নাথ ভান্ডারী এবং সদস্য রাজেশ মালহোত্রার বেঞ্চ ২০১৮ সালের ৩১ মে, ED-র দেওয়া সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলির আংশিক শুনানি মঞ্জুর করে। এই মামলায় BCCI, ললিত মোদী, এন শ্রীনিবাসন, এম পি পাণ্ডোভে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া এবং তার প্রাক্তন চিফ ম্যানেজার এ কে নাজির খানের বিরুদ্ধে জরিমানা করা হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় অভিযুক্ত ব্যাঙ্ক এবং তার কর্মকর্তাকেও মুক্তি দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নিয়মেই হয়েছিল এবং এটিকে FEMA লঙ্ঘন হিসাবে দেখা যায় না।
ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায়
তবে ট্রাইব্যুনাল দুটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ED-র সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। BCCI-কে তাদের হিসেবের খাতার চেয়ে বেশি টাকা বিদেশে পাঠানোর জন্য ৪ কোটি টাকার জরিমানা দিতে হবে। এছাড়াও, টিকিটের টাকা ভারতে ফিরিয়ে আনতে দেরি হওয়ায় BCCI-এর ওপর ৪ কোটি টাকার যে জরিমানা করা হয়েছিল, তা কমিয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে যে টাকাটা দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
স্বস্তি পেলেন ললিত মোদী
টাকা ফেরাতে দেরির অভিযোগে ললিত মোদীর ওপর যে জরিমানা চাপানো হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল তা বাতিল করে দিয়েছে। আদালত জানায়, যখন টাকা ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়, তখন মোদীকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল এবং তিনি আর দায়িত্বে ছিলেন না। এছাড়াও "পোয়ারিং রাইটস" থেকে হওয়া আয় ভারতে না ফেরানোর অভিযোগও খারিজ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের মতে, ED এই বিষয়ে BCCI এবং ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে হওয়া চুক্তির শর্তাবলী উপেক্ষা করেছিল।
শেষপর্যন্ত, ট্রাইব্যুনাল রায় দেয় যে, বিদেশে অতিরিক্ত টাকা পাঠানো এবং টিকিট বিক্রির টাকা দেরিতে ফেরানো—এই দুটি বিষয় ছাড়া ED-র বাকি সব অভিযোগ ও জরিমানা ভিত্তিহীন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


