World Cup 2026: টানা ৬০৯ মিনিট হয়ে গেল, বিশ্বকাপে এখনও কোনও গোল হজম করেননি স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমোন।মঙ্গলবার রাতে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিরুদ্ধে নিশ্চিত দুটি গোল বাঁচান সিমোন। বিশ্বকাপে ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার জেঙ্গার নজির ভেঙে চুরমার।
World Cup 2026: টানা ৬০৯ মিনিট হয়ে গেল, বিশ্বকাপে এখনও কোনও গোল হজম করেননি স্পেনের তারকা গোলকিপার উনাই সিমোন (Unai Simon)। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে সেই যে গোল খেয়েছিলেন সিমোন, তারপর থেকে ৬টি ম্যাচ হয়ে গেল তিনি অপরাজিত (টাইব্রেকার ছাড়া)। মঙ্গলবার রাতে প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগালের বিরুদ্ধে নিশ্চিত দুটি গোল বাঁচান সিমোন। চলতি বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচে কোনও গোল খাননি, টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়ার নজির গড়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম ক্লিন শিট স্ট্রিকের মালিক হয়েছেন ২৯ বছরের অ্য়াথলেটিক বিলবাওয়ের তারকা গোলকিপার। এই রেকর্ডের মাধ্যমে সিমোন ভেঙে দিয়েছেন ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গা (Walter Zenga)-র ৩৬ বছর পুরনো রেকর্ড।

৩৬ মিনিটের রেকর্ড ভেঙে চুরমার
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে জেঙ্গা টানা প্রায় ৫১৭ মিনিট গোল না খেয়ে যে নজির গড়েছিলেন, সেটিই এতদিন বিশ্বরেকর্ড হিসেবে অটুট ছিল। অবশেষে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখলেন স্পেনের তারকা গোলকিপার।সিমোন বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলকিপার যিনি ৬০০ মিনিটেরও বেশি সময় গোল না খেয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। বিশ্বকাপে দীর্ঘতম সময় গোল না খাওয়ার তালিকায় এখন সবার উপরে উনাই সিমোন।
সিমোনের কীর্তি
কার রেকর্ড ভাঙলেন
সিমোনের কীর্তিতে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি সময় গোল না খাওয়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছেন ইতালিরা কিংবদন্তি গোলকিপার ওয়াল্টার জেঙ্গা। এরপর রয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গর্ডন ব্যাঙ্কস, যার ক্লিন শিট স্ট্রিক ছিল প্রায় ৪৪৩ মিনিট। এছাড়া ব্রাজিলের কার্লোস এবং এমারসন লেও-ও এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য জায়গায় রয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঙ্গেলও ৩৮৪ মিনিট গোল না খেয়ে আলোচনায় এসেছিলেন, যদিও তিনি সিমোনের ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেননি। আগামী শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের সিমোনের সামনে এবার বেলজিয়াম।
ক্লিন শিটে এখনও সেরা শিল্টন, বার্তেজ
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারে সর্বাধিক ক্লিন শিটের রেকর্ড এখনও যৌথভাবে ধরে রেখেছেন ইংল্যান্ডের পিটার শিল্টন এবং ফ্রান্সের ফাবিয়েন বার্তেজ। তাঁদের দু'জনেরই বিশ্বকাপে ১০টি করে ক্লিন শিট রয়েছে। তবে সেটি ক্যারিয়ারের মোট ক্লিন শিটের রেকর্ড, আর সিমোনের কৃতিত্ব টানা মিনিট ধরে গোল না খাওয়ার ক্ষেত্রে। উনাই সিমোনের এই ঐতিহাসিক সাফল্য ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক ফুটবলে যেখানে আক্রমণভাগের শক্তি ক্রমশ বাড়ছে, সেখানে টানা ৬০৯ মিনিট গোল না খাওয়া এক অসাধারণ কৃতিত্ব। স্পেনের কিংবদন্তি গোলরক্ষক ইকার ক্যাসিয়াস এবং আন্দোনি জুবিজারেতা-র উত্তরসূরি হিসেবে সিমোন যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল।
অপ্রতিরোধ্য সিমোন
বিশেষ তাৎপর্যের বিষয় হল, সিমোনের এই কীর্তি কোনও একটা বিশ্বকাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর গোল না খাওয়ার ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছিল ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে, যা অব্যাহত রয়েছে ২০২৬ বিশ্বকাপেও। ফলে দুই বিশ্বকাপ মিলিয়ে এই অবিশ্বাস্য ৬০৯ মিনিটের ক্লিন শিট স্ট্রিক গড়ে তুলেছেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগও নজরকাড়া ছন্দে রয়েছে। অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধেও গোল হজম করেনি স্পেন। এই ধারাবাহিকতার ফলে দলটি টুর্নামেন্টে টানা ছয়টি ক্লিন শিট রেখে নতুন নজির গড়েছে। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম গোলরক্ষক হিসেবে টানা ছয়টি ক্লিন শিট রাখার কৃতিত্বও অর্জন করেছেন উনাই সিমোন।
নেপথ্যে কী কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের নেপথ্যে শুধু সিমোনের দুর্দান্ত গোলকিপিং নয়, স্পেনের গোটা রক্ষণভাগের নিখুঁত সমন্বয়ও বড় ভূমিকা নিয়েছে। বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ খুব কমই দিয়েছে স্পেন। ফলে অনেক ম্যাচেই সিমোনকে খুব বেশি সেভ করতে হয়নি। তবে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই অসাধারণ পজিশনিং ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দলকে বিপদমুক্ত করেছেন তিনি।
টানা কতগুলি ম্যাচে কোন গোল হজম করেননি সিমোন
২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের ফল-
কেপ ভার্দে: ০-০
সৌদি আরব: ৪-০
উরুগুয়ে: ১-০
রাউন্ড অফ ৩২
অস্ট্রিয়া: ৩-০
প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল
পর্তুগাল: ১-০
২০২২ বিশ্বকাপ প্রি কোয়ার্টারে
মরক্কো (০-০) (টাইব্রেকারে স্পেনকে হারায় মরক্কো।)

