নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর 'হামলার অভিযোগ' ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্য়েই জেলায় জেলায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। তারই মধ্যে এই ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন বিজেপি নেতারা। বলেছেন, 'এটা মানবতার বিষয়'। যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক হিংসা-পাল্টা হিংসা দেখতে অভ্যস্ত বাংলার মানুষ, কিছুটা হলেও আশার রেখা দেখছেন।

বৃহস্পতিবার, ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন তাঁদের দল এই বিষয়ে কোনও রাজনীতি করতে চায় না। কারণ এটা মানবতার বিষয়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জেড প্লাস সুরক্ষার নজরদারি পেলেও তারমধ্যে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে চেয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি করেছে বিজেপি। আর এটা বাংলার রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বেশ ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন মানুষ।

অঞ্চলে অঞ্চলে দাদাগিরি, স্কুল কলেজে নিয়োগ পাওয়া থেকে শুরু করে রেশন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রেও পার্টির দ্বারস্থ হওয়া, স্থানীয় স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-সহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক রাজনৈতিক হিংসা - বাম আমলে ৩৪ বছর ধরে এইসব দেখে অতীষ্ট হয়েই মানুষ ২০১১ সালে বাংলার ক্ষমতায় পরিবর্তন এনেছিলেন। সুযোগ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। কিন্তু, গত ১০ বছরে কী দেখলেন মানুষ?

কুর্সিতে বসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তাঁর সরকার 'মানবিক সরকার, দানবিক নয়'। রাজনৈতিক বদলা নেবেন না, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বদল আনবেন। কার্যক্ষেত্রে তা হয়নি। কখনও কলেজ শিক্ষিকাকে জগ ছুঁড়েছেন আরাবুল ইসলাম, কখনও অনুব্রত মণ্ডল বলেছেন পুলিশকে বোম মারতে। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার পরও তিনি, 'ভয়ঙ্কর প্রতিবাদ হবে' বলে হুমকি ছেড়েছেন। রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন, বিরোধী পক্ষের অসংখ্য মানুষ।

আরও পড়ুন - নন্দীগ্রামে 'নাটক' করে মমতার লাভ কী - এতে কোন কোন রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারেন তিনি

আরও পড়ুন - পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে তৃণমূলের - ২৯৪ আসনেই মুখে কুলুপ, নয়তো ফিসফিস

আরও পড়ুন - মিঠুন থেকে যোগী - সামনে এল বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপির ৪০ জন তারকা প্রচারকের নাম

এর মধ্যে, বিজেপির মানবতার আহ্বান এক ঝাপটা তাজা বাতাসের মতো। তাহলে কি সত্যিই  বাংলার রাজনৈতিক হিংসার অবসান ঘটবে, বদলাবে চিত্রটা? একটি ঘটনা দিয়ে পুরোটা বিচার করা সম্ভব নয় ঠিকই, তবে আশার একটা রেখা অবশ্যই। অন্তত মানুষ এমনটাই বলছেন। বাংলার নির্বাচনে এখনও মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণা করেনি বিজেপি। তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই এগিয়ে দিয়েছেন মানুষের সামনে। দেশে দেশে ভ্যাকসিন বিতরণই হোক, আর করোনার সময়ে বিদেশে আটকে পড়া মানুষদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা - মোদী সরকারকেও বিভিন্ন সময়েই মানবিক উদ্যোগ নিতে দেখা গিয়েছে। তাহলে কি এবার সত্যিই কোনও মানবিক সরকার পাবে বাংলার মানুষ? সময়ই তা বলতে পারবে।