তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ, যারা NCPI-তে যোগ দিয়েছেন, তাদের সাংসদ পদ খারিজের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের পদ খারিজের আবেদন নিয়ে এবার সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পাঠানো এই চিঠিতে অভিষেক আর্জি জানিয়েছেন, দলবদল করা এই সাংসদদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত শুনানি শুরু করা হয়। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলনেতা অভিষেক তাঁর চিঠিতে মনে করিয়ে দেন যে, এই সাংসদদের পদ খারিজের জন্য আবেদন করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ১৯ জুন। কিন্তু পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গেলেও স্পিকারের অফিস থেকে কোনও নোটিশ জারি করা হয়নি বা শুনানির দিনও ঠিক করা হয়নি। এই নিষ্ক্রিয়তাকে 'গভীর উদ্বেগের বিষয়' বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অভিষেকের চিঠি

অভিষেক লিখেছেন, "আবেদন জমা পড়ার পর পাঁচ সপ্তাহের বেশি কেটে গিয়েছে। এখনও কোনও নোটিশ জারি হয়নি, শুনানির দিনও ঠিক করা হয়নি। এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত উদ্বেগের।" চিঠিতে তিনি আরও বলেন, সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী (দলত্যাগ বিরোধী আইন), স্পিকারের এই ধরনের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নাহলে এই আইনের আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। তাঁর কথায়, "অযথা দেরি করলে সাংবিধানিক উদ্দেশ্যই নষ্ট হয় এবং সংসদীয় ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।" অভিষেক আরও একটি বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বাদল অধিবেশনের আগে ১৯ জুলাই যে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল, সেখানে এই বিদ্রোহী সাংসদদের একটি আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই ঘটনা বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অভিষেকের অনুরোধ

তৃণমূল নেতার বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা সংসদীয় প্রক্রিয়ার অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তাই সাংসদদের স্ট্যাটাস নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক কয়েকটি অনুরোধ করেছেন: ১. অবিলম্বে আবেদনগুলির শুনানি শুরু করা হোক। ২. যেহেতু প্রত্যেক সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আলাদা, তাই ২০টি আবেদনের শুনানি এবং সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে নেওয়া হোক। ৩. সব পক্ষকে যেন তাদের আইনজীবীর সঙ্গে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সম্পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়।

অভিষেক জানিয়েছেন, তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত এই ২০ জন সাংসদ দলত্যাগ করে সাংসদ পদ ধরে রাখার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাঁরা 'ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া' (NCPI) নামে একটি ত্রিপুরার একটি অনামী রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, যার সংসদ বা কোনও রাজ্য বিধানসভায় কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। প্রসঙ্গত, ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনের আগেই লোকসভার স্পিকার এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্য সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা করার অনুমতি দিয়েছিলেন।