ভুটানের শিনতাফু লেক ফেটে প্রবল জলস্রোত নেমে আসায় উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্কোশ নদী অববাহিকায় লাল সতর্কতা জারি করে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।
ভুটানের শিনতাফু লেক ফেটে গিয়েছে। যার ফলে হিমবাহের জল হুড়মুড়িয়ে নেমে আসছে। তাতে বিপদের মুখে রয়েছে উত্তরবঙ্গ। ইতিমধ্যেই দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এমনকী, বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ছে আলিপুরদুয়ার প্রশাসন।
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানান, ‘প্রথমেই জেলার বাসিন্দাদের বলতে চাই, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযগ রাখছি। আমাদের পুলিশ বাহিনী, জেলাশাসক, বিডিও এবং তাদের সংশ্লিষ্ট দলগুলো সহ সমস্ত সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা একযোগে সমন্বয় রেখে কাজ করছেন।’ … SDRF দল ইতিমধ্যেই এলাকায় আছে। NDRF-র একটি দলও আসছে। পাশাপাশি, সিভিল ডিফেন্সের দলও মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্কুলবাড়িগুলোকে ত্রাণশিবির হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, ৬ হাজারেও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এরই সঙ্গে তিনি আরও জানান, এখনও তারা হাই অ্যালার্টে আছে। পুলিশ, জেলাশাসকের দফতর এবং বিডিও-র দফতরের তরফে শুকনো খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শৌচাগারের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবাও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জানান, আগামী ২ ঘন্টায় পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, সেটা দেখা হবে। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে। সঙ্কোশ নদী অববাহিকায় আপাতত লাল সতর্কতা জারি আছে। আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে সঙ্কোশ নদী অববাহিকায় আপাতত লাল সতর্কতা জারি রয়েছে।
প্রসঙ্গত সংকোশ নদীতে প্রবল জলস্রোত। এবং বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভুটানের গাসা জেলার শিন্তাফু হ্রদ যেটি মোচু নদীর উৎসস্থল। সেটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর শোনা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, তিব্বত লাগোয়া ভুটানে (Bhutan) জারি করা হয়েছে বন্যা সতর্কতা। ভুটানের শিনটাফু লেক ফেটে হুড়মুড়িয়ে জল নেমে আসছে। আশঙ্কা, লেক থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল বেরিয়ে আসতে পারে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মোচু নদীর তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিপদ বার্তা দিতে বাজানো হচ্ছে সাইরেন। পাশাপাশি, ভুটানের পুনাসাংচুতেও জারি হয়েছে সতর্কতা। হঠাৎ জলস্তর বেড়ে গেলে পুনাসাংচু জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। পুনাসাংচু নদীই বাংলা ও অসমে সঙ্কোশ নামে প্রবেশ করেছে। ফলে ভুটানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।






