বৃহস্পতিবার অভিষেক ব্যানার্জির ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ধুন্ধুমার কাণ্ড। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের বিরুদ্ধে 'বেআইনিভাবে' সাইনবোর্ড খোলার অভিযোগ তৃণমূলের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি দলীয় অফিসে বিশৃঙ্খলার মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। তাঁর অভিযোগ, ১৫০-র বেশি পুলিশকর্মী "বেআইনিভাবে" বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়েছিল।
ডেরেকের বয়ান
ডেরেক সাংবাদিকদের বলেন, "বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ কলকাতা পুরসভা একটি বেআইনি নোটিশ নিয়ে আসে, সঙ্গে ছিল কলকাতা পুলিশ। নোটিশে সই ছিল না। বলা হয়েছিল ছবি দেওয়া আছে, কিন্তু কোনও ছবি ছিল না। নোটিশে কোনও বিস্তারিত তথ্যও ছিল না... দেড় ঘণ্টার বেশি আমরা বোঝানোর চেষ্টা করি। তারপর ওরা বেআইনিভাবে বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ে। ১৫০-র বেশি পুলিশকর্মী ভেতরে ঢোকে। সিঁড়িতে আমাদের ধাক্কাধাক্কি করে।"
এই ঘটনার একটি ভিডিও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে শেয়ার করা হয়েছে।
তৃণমূলের ছাত্র সম্মেলন পণ্ড করাই লক্ষ্য: ডেরেক
ডেরেক আরও দাবি করেন যে, ঘটনার সময় দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, পরদিন তৃণমূলের বার্ষিক ছাত্র সমাবেশের জন্যই এই পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, পুলিশ ১০ থেকে ১৫ জন তৃণমূল কর্মীকে "বেআইনিভাবে" "তুলে নিয়ে গেছে"।
তিনি বলেন, "ওরা আমাদের সিঁড়িতে ধাক্কাধাক্কি করেছে... অভিষেকও সেখানে ছিল... কাল তৃণমূলের ছাত্র সমাবেশ আছে বলেই আজ এটা করা হল... এর পিছনে বিজেপি এবং বিজেপির বি-টিম রয়েছে... আমি প্রথমে থানায় যাচ্ছি কারণ ওরা আমাদের ১০-১৫ জন কর্মীকে বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে গেছে।"
অভিষের ক্যামাকস্ট্রিটের অফিসে ধুন্ধুমার
ক্যামাক স্ট্রিটের যে বিল্ডিংয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস রয়েছে, সেখান থেকে 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' লেখা সাইনবোর্ডটি কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পুলিশের সাহায্যে সরিয়ে দেওয়ার পরেই এই ঘটনা ঘটে।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক শাসনের অবক্ষয় এবং রাজ্যটা যে একটা পুলিশি রাজ্যে পরিণত হচ্ছে, তা আমরা দেখতে পাচ্ছি। যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সাংবিধানিক বিধিনিষেধ ছাড়া কাজ করে, তখন বিচারবিভাগই শেষ ভরসা। মৌলিক অধিকার খর্ব হওয়ার সময় যদি বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে শুধু ব্যক্তির স্বাধীনতাই নয়, গণতন্ত্রের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়।"
<br>এদিকে, কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে যে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিস্তারিত বিবরণ শীঘ্রই জানানো হবে।</p>


