রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ কয়েক দশক পর কালো গাউন পরে আইনজীবী হিসেবে আদালতে সওয়াল করতে হাজির হয়েছিলেন। তবে শুনানির শেষে আদালত চত্বর থেকে বেরনোর সময় তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং রাজ্যে ‘বুলডোজার’ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ নিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতা হাইকোর্ট। এদিন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ কয়েক দশক পর কালো গাউন পরে আইনজীবী হিসেবে আদালতে সওয়াল করতে হাজির হয়েছিলেন। তবে শুনানির শেষে আদালত চত্বর থেকে বেরনোর সময় তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে ভোট-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি ছিল। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র আইনজীবী শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সওয়াল করেন বাম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নজিরবিহীনভাবে এদিন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সওয়ালে অংশ নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সওয়াল চলাকালীন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, নিউ মার্কেট বা হগ মার্কেট এলাকায় আইন না মেনে বুলডোজার দিয়ে দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে বুলডোজার চালানোর ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারির আবেদন জানান। মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও ভাঙচুর হওয়া সম্পত্তি মেরামতির দাবি জানান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচারপতির কাছে হাত জোড় করে বলেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে বুলডোজার চালানো যায় না। প্লিজ রাজ্যবাসীকে বাঁচান”। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চলছে এবং পুলিশ কোনো এফআইআর (FIR) নিচ্ছে না।

শুনানি শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এজলাস থেকে বেরিয়ে নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখনই আদালত চত্বরে জমা হওয়া বহু আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় মমতাকে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে গাড়িতে তুলে দিতে। এই ঘটনায় আদালত চত্বরে উপস্থিত তৃণমূল সমর্থকদের সঙ্গে স্লোগানদাতাদের হাতহাতি হওয়ার উপক্রম হয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনা প্রসঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করে বলেন, “আমার অনেক কাজ আছে, এসব উত্তর দেওয়ার সময় নেই”। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে এবং মামলার রায় পরে জানানো হবে

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।