মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে ১০০০টি নতুন পরিবেশবান্ধব বাস নামানো হবে। এর পাশাপাশি তিনি রাজ্যের জলপথ পরিবহণকে আধুনিক করা, নতুন মেট্রো করিডোর তৈরি এবং কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ট্রাম সংরক্ষণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত ১০০০টি নতুন পরিবেশবান্ধব বাস চালু করা হবে। এদিন তিনি কলকাতার পরিবহণ ভবনে ৪৩টি সিএনজি এবং ৭টি ইলেকট্রিক বাস মিলিয়ে মোট ৫০টি নতুন বাসের উদ্বোধন করেন। মঙ্গলবার কসবায় পরিবহণ দপ্তরের অনুষ্ঠান থেকে গণপরিবহণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ইলেক্ট্রিক ও সিএনজি বাসের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান।

অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধিকারী বলেন, "আজ আমরা ৫০টি পরিবেশবান্ধব বাস চালু করলাম... আরও ৪০০টি নতুন বাসের জন্য একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে, সেটাও দ্রুত অনুমোদন পেয়ে যাবে। আগামী এক বছরে আমরা ১০০০টি নতুন বাস আনব, যা পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত।" মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে পশ্চিমবঙ্গের ৪০টি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর একযোগে কাজ করে চলেছে।

জলপথ পরিবহণের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা

বাসের পাশাপাশি রাজ্যের অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহণকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "পরিবহণ দপ্তরের অধীনে থাকা জেটিগুলোরও আমরা উন্নতি ঘটাব। আমাদের জলপথ নেটওয়ার্ক দারুণ, এটাকে কাজে লাগিয়ে আমরা যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি পর্যটন ও বাণিজ্যের উন্নতি করতে চাই। সুন্দরবনের মতো জায়গায় আমরা উন্নত মানের বিলাসবহুল বোট পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।"

এই মাসের ৪ তারিখে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অধিকারী জানান, "রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পশ্চিমবঙ্গকে জল মেট্রো (Water Metro) এবং উড়ান (UDAN) প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।"

সড়ক সুরক্ষা ও পুরনো গাড়ি

মুখ্যমন্ত্রী পুরনো গাড়ি নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "১৫ বছরের বেশি পুরনো গাড়ি যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং ব্যবহারের অযোগ্য, তা নিয়ে এক মাস ধরে প্রচার চালানো উচিত। এই গাড়িগুলোর আইনত রোড পারমিট রিনিউ করা সম্ভব নয়। এগুলোকে অবিলম্বে রাস্তা থেকে সরাতে হবে। এর থেকে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।"

মেট্রো ও ট্রাম নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ

কলকাতার মেট্রো নেটওয়ার্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, "কলকাতার মূল মেট্রো কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রকের অধীনে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে রেলই এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্প্রসারণের কাজ করবে, আমরা শুধু সহযোগিতা করব। আমরা আসানসোল-দুর্গাপুর এবং জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি করিডোরে মেট্রো ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই।"

কলকাতার ট্রাম প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ট্রাম আমাদের ঐতিহ্য এবং একে রক্ষা করতেই হবে। তবে পরিবহণ মন্ত্রীকে যানজটের কথাও মাথায় রাখতে হবে... এমন জায়গায় ট্রাম চালানো উচিত যেখানে সুন্দর দৃশ্য বা দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যাতে পর্যটক ও বিদেশিরা তা দেখতে ও উপভোগ করতে পারেন।"

সব শেষে তিনি রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কী হওয়া উচিত, তা স্পষ্ট করে দেন। অধিকারী বলেন, "আমাদের পরিবহণ ব্যবস্থাকে দ্রুত, আধুনিক এবং পরিবেশবান্ধব হতে হবে।" অনুষ্ঠানে রাজ্যের পরিবহণ ও শ্রম দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং পরিবহণ ও অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মনও উপস্থিত ছিলেন।