নন্দীগ্রামে টিএমসি প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। কংগ্রেস প্রার্থীকে মমতা সমর্থন করতেই গ্রেফতারির ঘটনায় চাঞ্চল্য। কী ঘটেছে?

রীতিমত জমজমাট নন্দীগ্রাম। উপনির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনীতির রঙ বদল হচ্ছে নন্দীগ্রামে। উপনির্বাচনের প্রথমেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক আর নাম নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের কংগ্রেসের প্রতীক আর নাম ফ্রিজ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলাদা আলাদা নাম আর প্রতীক দেয়। কিন্তু তারপরেও নন্দীগ্রাম নিয়ে অন্য নাটক তৈরি হয়েছে। এবার নন্দীগ্রামে আলোচ্য বিষয় প্রার্থী।

মমতার প্রার্থী নেই নন্দীগ্রামে

নন্দীগ্রাম আর রেজিনগর উপনির্বাচনে প্রথমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নিজের হাতে আঁকা তৃণমূল কংগ্রেস প্রতীক আর নিজের দেওয়া নাম হাতছাড়া হয়। তারপর এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের হাত ছাড়া হল প্রার্থী। আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের প্রার্থী করেছিলেন সঞ্চিতা দে-কে। কিন্তু গতকাল, শুক্রবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা হয়। কী নিয়ে কথা হয় তা অবশ্য কেউই জানাননি। তারপরই সঞ্চিতা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। প্রার্থী হিসেবে দিন কয়েক আগেই তিনি অখিল গিরির সঙ্গে গিয়ে মনোয়নয় জমা দিয়েছিলেন। আর শনিবার উপনির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। তার আগেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

কংগ্রেসকে সমর্থন

এই পরিস্থিতে মমতা নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকেই সমর্থন করার কথা ঘোষণা করেন। মমতা বলেন'রাহুল গান্ধী বৃহস্পতিবার ফোন করেছিলেন। অপবিন্দ কেজরিওয়াল করেছেন। আমরা একসঙ্গে লড়ব। বিজেপি-কে ছাড়বো না। সিস্টার পার্টিকে সাপোর্ট করবো। ন্যাচারাল জোটকে সাপোর্ট করবো। বিজেপিকে না।' মমতার এই ঘোষণার পরেই ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায় নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

কংগ্রেস প্রার্থী গ্রেফতার

মমতার এই ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রামের রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। কারণ শুক্রবার সন্ধ্যেতেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার হলদিয়া আদালতে হাজির করানো হতে পারে। পুলিশ সূত্রের খবর পুরনো একটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, মিলনের বিরুদ্ধে তারাই অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারির পরে রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'রাজনৈতিক প্রতিশোধ' নিতেই এই কাজ করা হয়েছে।