Train Cancel: ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু হওয়া শতাব্দী, বন্দে ভারত-সহ ২০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল। হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বগামী রুটে ব্যাপক প্রভাব, দেখুন সম্পূর্ণ তালিকা।
নিউ ফরাক্কা স্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে ধসের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও স্বাভাবিক হল না পরিষেবা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামতির কাজ চললেও নতুন করে ফের ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রেল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১০০ মিটার জায়গা জুড়ে প্রায় ১৫ ফুট ধসে গিয়েছে। ওভারহেড বৈদ্যুতিক পোলও হেলে পড়েছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে কাজ চলছে। তবে কতক্ষণে পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না আধিকারিকরাও।
নিউ ফারাক্কা স্টেশনে রেল লাইনে ধসের প্রভাব
এর জেরে বহু ট্রেন বাতিল এবং একাধিক ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা দূরপাল্লার ট্রেনগুলিকে ঘুরপথে গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে।এদিকে বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীরা স্টেশনে আটকে চরম দুর্ভোগে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন দেরি, খাবার ও পানীয় জলের অভাব, সব মিলিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক। এক যাত্রী যশোরাজ জানান, "রাত থেকে ট্রেন আটকে, না খেয়ে চরম দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছি।"
গতকাল ভোর রাত থেকেই নিউ ফারাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের মাঝে ধস নামার জেরে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল পরিষেবা। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রেল স্টেশনে। রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধসের কারণে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং ধূপগুড়িগামী বেশ কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলছে। কিছু ট্রেনকে বিকল্প বা ঘুরপথে চালানো হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে।

যাত্রী দুর্ভোগ
রেল পরিষেবায় এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে আজ সকাল থেকেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন যাত্রীরা। প্রতিদিন যেখানে নিত্যযাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন, এদিন সেই চেনা ছবিটাই কার্যত উধাও। স্টেশন চত্বর অনেকটাই ফাঁকা। প্ল্যাটফর্মে হাতে গোনা কয়েকজন যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ ধরে ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা যায়। যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই স্টেশনে এসে পৌঁছেছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রেনের দেখা মিলছে না। কেউ কেউ তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত স্টেশনে অপেক্ষা করছেন বলে দাবি করেছেন। এর ফলে কর্মস্থলে পৌঁছানো, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে যাওয়া মানুষজন সমস্যায় পড়েছেন।
বিশেষ করে প্রতিদিন দূরপাল্লার ট্রেনের উপর নির্ভরশীল নিত্যযাত্রীদের সমস্যাই সবচেয়ে বেশি। ট্রেন বাতিল হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কয়েক ঘণ্টা দেরিতে চলার কারণে অনেকেই বিকল্প পরিবহণের খোঁজ করছেন। তবে হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক যাত্রী সড়কপথে যাওয়ার চেষ্টা করায় সেখানেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উত্তরবঙ্গগামী রুটে ফের যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা। রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর যে সমস্ত ট্রেন যাত্রা শুরু করার কথা ছিল, তার মধ্যে একাধিক ট্রেন সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ ও কলকাতা থেকে ছাড়া উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন এই তালিকায় রয়েছে, ফলে সমস্যায় পড়তে চলেছেন বহু যাত্রী।
কোন কোন ট্রেন বাতিল রইল, দেখে নেওয়া যাক এক নজরে —
প্রথম তালিকায় রয়েছে হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেস (১২০৪১/১২০৪২), যা উত্তরবঙ্গগামী অন্যতম জনপ্রিয় ট্রেন হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও বাতিল হয়েছে কলকাতা-বালুরঘাট তেভাগা এক্সপ্রেস (১৩১৬১), হাওড়া-মালদা টাউন ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (১৩০১১), শিয়ালদহ-নিউ আলিপুরদুয়ার তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস (১৩১৪১), হাওড়া-মালদা টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস (১৩৪৬৫/১৩৪৬৬) এবং মালদা টাউন-আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার ট্রেন (৫৩০২৮)।
দ্বিতীয় তালিকায় আরও দীর্ঘ সংখ্যক ট্রেন
এখানেই শেষ নয়, ৪ সেপ্টেম্বর যাত্রা শুরু হওয়া আরও একাধিক দূরপাল্লার ও উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন বাতিলের তালিকায় রয়েছে। হাওড়া-গুয়াহাটি সরাইঘাট এক্সপ্রেস (১২৩৪৫), শিয়ালদহ-বামনহাট উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস (১৩১৪৭), শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস (১৩১৪৯), শিয়ালদহ-সহরসা হাটে বাজারে এক্সপ্রেস (১৩১৬৩), শিয়ালদহ-মালদা টাউন গৌড় এক্সপ্রেস (১৩১৫৩), শিয়ালদহ-নিউ আলিপুরদুয়ার দার্জিলিং মেল (১২৩৪৩), শিয়ালদহ-বালুরঘাট এক্সপ্রেস (১৩১৮৯), শিয়ালদহ-নিউ আলিপুরদুয়ার পদাতিক এক্সপ্রেস (১২৩৭৭), শিয়ালদহ-জলপাইগুড়ি রোড হামসফর এক্সপ্রেস (১৩১১৫), কলকাতা-রাধিকাপুর এক্সপ্রেস (১৩১৪৫), কলকাতা-জোগবানি এক্সপ্রেস (১৩১৫৯), হাওড়া-ডিব্রুগড় কামরূপ এক্সপ্রেস (১৫৯৬১), হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস (২৭৫৭৫) এবং হাওড়া-কাটিহার এক্সপ্রেস (১৩০৩৩) বাতিল করা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য পরামর্শ
এত সংখ্যক ট্রেন একসঙ্গে বাতিল হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলগামী যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। যাঁরা এই তারিখে যাত্রার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের রেলের নির্দিষ্ট তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। টিকিট বাতিল বা রিফান্ড সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে যাত্রীদের।


