উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে ছাত্রকে শাসন করায় এক শিক্ষককে বেল্ট খুলে মারধর করেন অভিভাবক। সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন প্রধান শিক্ষকও। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শিক্ষকের অপরাধ ছিল, ক্লাসে বিশৃঙ্খলা করায় ছাত্রকে সামান্য শাসন করেছিলেন। আর সেই অপরাধে স্কুল চত্বরে ঢুকে খোদ প্রধান শিক্ষকের চোখের সামনে দুই শিক্ষককে কোমর থেকে বেল্ট খুলে বেধড়ক পেটালেন এক ক্ষিপ্ত অভিভাবক। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে। মঙ্গলবার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসতেই তা ভাইরাল হয়েছে। এরপর তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা রাজ্যে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া চলছিল। সেই সময় ক্লাসরুমের ভেতরে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া চরম বিশৃঙ্খলা শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করেন শিক্ষক অরুণ দাস। ছাত্রদের শান্ত হতে সামান্য বকাঝকা ও শাসন করেন। অভিযোগ , স্কুল থেকে ফিরে ওই ছাত্র তার পরিবারকে এই কথা জনায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে স্কুলে চড়াও হন ওই ছাত্রের বাবা। কোমর থেকে বেল্ট খুলে বেধড়ক পেটান শিক্ষককে।

ভাইরাল হওযা ফুটেজে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্ত দেবব্রত দাস স্কুলে ঢুকেই সোজা প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষক অরুণ দাসের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদ হয়। বচসা চলাকালীন কোমর থেকে বেল্ট খুলে বেধড়ক মারেন শিক্ষককে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সহকর্মীদের বাঁচাতে প্রধান শিক্ষক সমরেশ বাবু নিজে ছুটে যান। কিন্তু উন্মত্ত ওই অভিভাবক প্রধান শিক্ষককেও রেয়াত করেননি। তাকেও মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনকে বাকি শিক্ষক ও অশিক্ষিত কর্মীরা ছুটে আসেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ওই ব্যক্তিতে গ্রেফতার করেছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশ মণ্ডল বলেন, স্কুলে ন্যূনতম শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ছাত্রদের একটু আধটু শাসন করতেই হয়। কিন্তু এর জন্য যদি এভাবে অভিভাবক স্কুলে ঢুকে বেল্ট নিয়ে মারধর করেন, তবে পঠনপাঠন চালানো অসম্ভব। আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।