শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দৃশ্যমান লক্ষণ দেখে রোগ চেনা যেতে পারে, এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের লক্ষণগুলি কেন গুরুত্বপূর্ণ : আমাদের শরীর টিস্যু দিয়ে তৈরি অঙ্গতন্ত্র দ্বারা গঠিত। প্রতিটি অঙ্গ শরীরের সাথে সম্পর্কিত, তাই শরীরে কোনো পরিবর্তন হলে চোখ, কান, মুখ, পা, পায়ের পাতা ইত্যাদি অঙ্গে তার লক্ষণ দেখা যায়। এই প্রতিবেদনে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দৃশ্যমান লক্ষণ দেখে রোগ নির্ণয় এবং তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হলো।
চোখে ফোলা ভাব;
যদি আপনার চোখ ফোলা দেখায়, তাহলে বুঝবেন কিডনিতে সমস্যা আছে। কিডনি ভালোভাবে কাজ না করলে চোখ ফোলা দেখায়। এটা এড়াতে খাবারে লবণ কম দিন। প্রচুর জল পান করলে কিডনি ভালোভাবে কাজ করে এবং চোখের ফোলা ভাব কমে।
চোখের পাতায় সমস্যা;
কারও কারও চোখের পাতায় ব্যথা হতে পারে। এটা চোখের বিশ্রাম দরকার হওয়ার লক্ষণ। শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাবে দুর্বলতা থেকেও ব্যথা হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং খাবারের তালিকায় বাঁধাকপি, শাকের মতো সবুজ সবজি যোগ করুন।
চোখে আলো দেখা?
চোখ অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ, হঠাৎ করে বেশি আলো দেখার মতো অনুভূতি হয়। কাজের চাপ, মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে চোখে ভুল সংকেত পাঠালে এমন হয়। এটা ঠিক করতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। কফি খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
চোখের ব্যায়াম:
চোখকে উপর-নীচ এবং পাশাপাশি ঘোরানো ভালো। এতে চোখ সচল থাকে এবং শুষ্ক হয় না।
মুখ ফোলা লাগলে..
শরীরে জলীয় অংশ জমলে মুখ ফোলা দেখাতে পারে। এটা ঠিক করতে বেশি করে জল পান করা উচিত। পর্যাপ্ত জল পান না করলে রক্তকোষ প্রসারিত হয়। তাই মুখ ফোলে। অন্তত ৭ থেকে ৮ গ্লাস জল পান করুন।
ত্বকের হালকা হলুদ ভাব:
লিভারের রোগ থাকলে ত্বক হলুদ হতে পারে। লিভার বর্জ্য পদার্থ বের করতে না পারলে ত্বক হলুদ হয়ে যায়। মদ্যপান এড়িয়ে চলা উচিত। এটা লিভারের জন্য ক্ষতিকর। মদ্যপান বন্ধ করাই ভালো।
হাত, পা ও পায়ে সুঁই ফোটানোর মতো অনুভূতি:
রক্ত চলাচল স্বাভাবিক না থাকলে এই সমস্যা হয়। রক্তনালীতে ব্লকেজ থাকলে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে না। হাঁটা, যোগা ইত্যাদি ব্যায়াম রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে। সবজি, ডিম, শাক, মাংসের মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
পা অসাড় হয়ে যাওয়া:
ডায়াবেটিস থাকলে এই লক্ষণ দেখা যায়। সুগার থাকলে পায়ে জুতো পরলেও অনুভূতি থাকে না। ঘর্ষণ বা জ্বালা অনুভব হয় না। প্রতিদিন হাঁটা, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ভালো ঘুম এবং মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চললে সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
পায়ের গোড়ালি ফাটা:
থাইরয়েড হরমোনের সমস্যার কারণে পায়ের গোড়ালি ফাটতে পারে। পায়ের গোড়ালি ফাটার সাথে ওজন বাড়া বা কমার মতো লক্ষণ দেখা গেলে রক্ত পরীক্ষা করে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো উচিত এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
লালচে হাতের তালু:
লিভারের সমস্যা থাকলে হাতের তালু লাল হতে পারে। এটা ঠিক করতে সপ্তাহে একবার পাথরকুচি খেতে পারেন। ডাক্তারের কাছে গিয়ে লিভার পরীক্ষা করানো উচিত।
ফ্যাকাশে নখ;
রক্তাল্পতা থাকলে এই লক্ষণ দেখা যায়। রক্তে লোহিত রক্তকণিকা কম থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এটা ঠিক করতে কলিজা, শাক, মাংস খেতে পারেন। আয়রনের অভাব পূরণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।
আঙুলের গিঁটে ব্যথা:
আর্থ্রাইটিস বা গেঁটে বাত হলে আঙুলের গিঁটে ফোলা ও ব্যথা হতে পারে। এটা শুধু বয়স্কদের নয়, যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান গ্রহণ করা উচিত। কমলালেবুর মতো ভিটামিন সি যুক্ত ফল খেতে পারেন। গিঁটের ব্যথা কমাতে ব্যায়াম করা যেতে পারে। ওজন কমালেও গিঁটের ব্যথা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
নখে গর্ত:
সোরিয়াসিস থাকলে ত্বক ও নখ নরম হয়ে যায়। এর ফলে নখে গর্ত হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মুখের মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে..
দাঁতের মাড়ির রোগ থাকলে মাড়ি থেকে রক্ত ঝরতে পারে। মাড়িতে ও তার নিচের হাড়ে সংক্রমণ থাকলে দাঁত দুর্বল হয়ে যায় এবং রক্ত পড়ে। দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বুঝতে হবে এই সমস্যা আছে।