২০২৯ সালের আগেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র অধীনে থাকা দেশের ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform Civil Code (UCC) চালু করা হবে। এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে UCC চালু করা হয়েছে।

২০২৯ সালের আগেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র অধীনে থাকা দেশের ২১টি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা Uniform Civil Code (UCC) চালু করা হবে। এই ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার মুম্বইয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহ বলেন, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্যে UCC চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২৯ সালের আগে NDA শাসিত ২১টি রাজ্যেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করা হবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল ধর্ম নির্বিশেষে নাগরিকদের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত বিষয়ে একটি অভিন্ন আইন চালু করা।

অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই আইন চালুর কাজ শুরু হয়েছে। এবার NDA শাসিত বাকি রাজ্যগুলিতেও তা কার্যকর করার লক্ষ্যে এগোবে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি। অমিত শাহ বলেন, “২০২৯ সালের আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-র অধীনে থাকা ২১টি রাজ্যেই UCC কার্যকর করা হবে।”

২০১৪ সাল থেকে 'পারফরম্যান্স বা কাজের ভিত্তিতে রাজনীতি'

শাহ বলেন, ২০১৪ সালের আগের দুর্নীতি, জাতিভেদ এবং পরিবারতন্ত্রের যুগ থেকে বেরিয়ে এসে ভারত এখন বিজেপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে 'পারফরম্যান্স-ভিত্তিক রাজনীতি' বা কাজের ভিত্তিতে রাজনীতির পথে এগিয়ে চলেছে। সাংবাদিক বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, এয়ার স্ট্রাইক এবং অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্ট হয়েছে।

তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ আরও বলেন, সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একাধিক অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৩৭০ ধারা, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি। তাঁর বক্তব্য, এই বিষয়গুলি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল। ২০২৯-এর আগে NDA শাসিত ২১টি রাজ্যে UCC কার্যকর করার এই ঘোষণা আগামী দিনে দেশের আইন ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতি এখন এক দৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েছে। যেখানে "ইন্ডিয়া ফার্স্ট" বা "ভারতই প্রথম"—এই নীতি সরকারের কার্যক্রমকে পরিচালিত করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারত এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে

শাহ ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশটি একসময়ের ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকা বা "ফ্র্যাজাইল ফাইভ" (Fragile Five)-এর পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি অর্থনীতির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। তিনি প্রথম প্রান্তিকে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন যে, প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে ভারত এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে।

এছাড়া তিনি ৩৭০ ধারা বাতিল, নকশাল সমস্যা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি এগুলিকে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা কয়েক দশক ধরে ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।