র্যাপার বাদশার দ্বিতীয় স্ত্রী ইশা রিখির সঙ্গে মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে বিচ্ছেদের পর তাঁর প্রথম স্ত্রী জেসমিন মাসিহ ও মেয়ে জেসেমিকে নিয়ে কৌতূহল বেড়েছে। ২০২০ সালে ডিভোর্সের পর জেসমিন ও জেসেমি বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন।
র্যাপার বাদশার ব্যক্তিগত জীবন আবার খবরের শিরোনামে। কারণ, মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ইশা রিখির সঙ্গেও বিচ্ছেদ হয়ে গেল। এই খবর সামনে আসতেই ভক্ত ও মিডিয়ার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে: বাদশার প্রথম স্ত্রী জেসমিন মাসিহ এবং তাঁদের মেয়ে জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং এখন কোথায়? কেমন আছেন? বাদশা নিজে ৩১ আগস্ট, ২০২৬-এ ইশার সঙ্গে আলাদা হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। আর তারপর থেকেই তাঁর অতীত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। আমরা নিশ্চিত খবর পেয়েছি, জেসমিন ও জেসেমি এখন লন্ডনে থাকেন।
২০১২ সালে বাদশা ও জেসমিন মাসিহ বিয়ে করেন। তাঁদের সম্পর্ক বরাবরই প্রচারের আলো থেকে দূরে ছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁদের মেয়ে জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং-এর জন্ম হয়। কিন্তু আট বছরের দাম্পত্য জীবনের পর ২০২০ সালে এই দম্পতির বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় অধ্যায়ের দ্রুত ইতি
মাত্র পাঁচ মাস! হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। মার্চ ২০২৬-এ ব্যক্তিগত পরিসরে ইশা রিখিকে বিয়ে করার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই বাদশা দ্বিতীয়বার ডিভোর্সের পথে হাঁটলেন। এই বিচ্ছেদ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকে আবার আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। বাদশা এবং ইশা দুজনেই প্রায় একই বয়ান দিয়ে নিজেদের আলাদা হওয়ার খবর জানিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর অনুরোধ করেছেন। এর বাইরে তাঁরা আর কিছুই জানাননি। এত তাড়াতাড়ি দ্বিতীয় বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় বাদশার দাম্পত্য জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল আরও বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর প্রথম বিয়ের সঙ্গে এর তুলনা টানা হচ্ছে এবং সেই পুরনো সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কেন ভেঙেছিল প্রথম বিয়ে?
২০১২ সালে পথচলা শুরু করে আট বছর পর, অর্থাৎ ২০২০ সালে বাদশা ও জেসমিন মাসিহের ডিভোর্স হয়। শোনা যায়, এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ ছিল। প্রধান কারণ হিসেবে "সংস্কৃতির ফারাক এবং জীবনযাত্রার পার্থক্য"-কেই দায়ী করা হয়। জেসমিন লন্ডনে জন্মেছেন এবং বড় হয়েছেন। তাই ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর বেশ সমস্যা হচ্ছিল। শোনা যায়, বাদশার বাবা-মা নাকি আগে থেকেই এই সমস্যার আশঙ্কা করেছিলেন। সাংস্কৃতিক পার্থক্যের পাশাপাশি, তাঁদের মেয়ে জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং-এর স্বাস্থ্যও একটি বড় কারণ ছিল। বাদশা নিজেই জানিয়েছিলেন, সম্পর্কটা জেসিমির জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছিল, তাই আলাদা হওয়াটা জরুরি ছিল। ডিভোর্সের আগে দুজনেই নাকি সম্পর্কটা বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছিলেন।
লন্ডনের জীবন, দূর থেকে সন্তানের দেখভাল
বাদশার সঙ্গে ডিভোর্সের পর জেসমিন মাসিহ এবং তাঁদের মেয়ে জেসেমি গ্রেস মাসিহ সিং লন্ডনে চলে যান। ফলে, তাঁদের বর্তমান ঠিকানা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠছিল, তার উত্তর পাওয়া গেল। বাদশার বিপুল খ্যাতি এবং তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হলেও জেসমিন নিজেকে প্রচারের আলো থেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছেন। তবে ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও বাদশা মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং তার দেখভালের সব দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জনসমক্ষেই মেয়েকে তাঁর "পুরো পৃথিবী" বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও মহাদেশের ব্যবধানের কারণে তিনি চাইলেও মেয়ের সঙ্গে খুব বেশি দেখা করতে পারেন না।
