Special session of Parliament: বিরোধী দলগুলির হই-হট্টগোলের জেরে সংসদের বাদল অধিবেশনের (Monsoon Session) বেশিরভাগ সময়ই নষ্ট হয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিল পাশ করানো সম্ভব হয়নি। এবার সেই বিলগুলি পাশ করানোর লক্ষ্যে সংসদের বিশেষ অধিবেশনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
KNOW
Delimitation Bill-Women's Reservation Amendment Bill: বারবার বিরোধী দলগুলির সাংসদদের বাধা দেওয়ার কারণে সংসদের বাদল অধিবেশনের (Monsoon Session) বেশিরভাগ সময়ই কোনও কাজ করা সম্ভব না হলেও, নরেন্দ্র মোদী সরকার (Narendra Modi Government) সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী দু'টি বিল পেশ করার এবং পাশ করানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩ অগাস্ট বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই সরকার সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করছে। এই অধিবেশনে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল (Delimitation Bill) এবং মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিল (Women's Reservation Amendment Bill) পেশ ও পাশ করানোর চেষ্টা করা হবে।
সংসদ মুলতুবি না-ও হতে পারে
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পর সংসদ মুলতবি (Prorogue) না-ও করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকার খুব অল্প সময়ের নোটিসে ফের সংসদের অধিবেশনে ডাকতে পারবে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার সবরকমভাবে চেষ্টা করছে। প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলেই সরকার বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল দু'টি পাশ করানোর উদ্যোগ নিতে পারে। ১৩১-তম সংবিধান সংশোধনী বিলের অংশ হিসেবেই মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিলও আনা হয়েছিল। তবে গত এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভায় বিলটি পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র (NDA) লোকসভা বা রাজ্যসভা, কোনও কক্ষেই প্রয়োজনীয় সমর্থন ছিল না। তবে এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ফলে লোকসভা ও রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবধান কিছুটা কমেছে। মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) বড় পরাজয়ের পর সংসদের উভয় কক্ষেই বিজেপি-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য লোকসভায় ৩৬০ জন এবং রাজ্যসভায় ১৬৪ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। এই লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে বিজেপি-র ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে।
এনডিএ-কে সমর্থন করবে ডিএমকে?
বিধানসভা নির্বাচনের ফল এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের শরিক কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে এম কে স্ট্যালিনের (MK Stalin) রাজনৈতিক দূরত্ব বাড়ার পর সংবিধান সংশোধনী বিল পাশের সম্ভাবনা বাড়াতে ডিএমকে-র (DMK) লোকসভার ২২ জন সাংসদের সমর্থন পাওয়ার দিকেও নজর দিচ্ছে বিজেপি। কারণ, এই ধরনের বিল পাস করাতে সংসদের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক। তবে তামিলনাড়ুতে (Tamil Nadu) ডিলিমিটেশন এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। ক্ষমতায় থাকাকালীন ডিএমকে-ও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার চালিয়েছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে স্ট্যালিনের দল ১৩১-তম সংবিধান সংশোধনী বিলে বিজেপি-কে সমর্থন করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


