রাম মন্দিরের দানের টাকা গোনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর বড়সড় পদক্ষেপ নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। এবার থেকে সিসিটিভি নজরদারিতে টাকা গোনা হবে, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে এবং ধর্মীয় কমিটিও নতুন করে গড়া হয়েছে।
অযোধ্যায় বৈঠকের পর বেশ কিছু বড় প্রশাসনিক ও ধর্মীয় সংস্কারের কথা ঘোষণা করল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। দানের টাকা গোনা নিয়ে দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই স্বচ্ছতা বাড়ানো, মন্দির প্রশাসনকে আরও মজবুত করা এবং প্রথাগত ধর্মীয় রীতিনীতি বজায় রাখার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্ট জানিয়েছে, দানের টাকা গোনার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT)-এর তদন্ত এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। তাই রিপোর্ট আসার আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করার জন্য আবেদন জানিয়েছে ট্রাস্ট। তাদের বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাস্ট কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। এখন থেকে দানের টাকা গোনার সময় ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার এবং স্বর্ণ রজত ফিনান্সের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি লাইভ সিসিটিভির মাধ্যমে নজরদারি করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
ট্রাস্ট বর্তমান ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এবং নিয়মকানুন ঠিকমতো পালন না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিনান্স কমিটিকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সাধুরা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)-র ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কারণ, টাকা গোনার জন্য ব্যাঙ্কের নিয়োগ করা কর্মীরাই এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত। ট্রাস্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, টাকা গোনা এবং জমা দেওয়ার জন্য SBI-এর সঙ্গে বর্তমান চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
বৈঠকে আলোচনা হয় যে, এত অভিযোগ এবং নেতিবাচক প্রচার সত্ত্বেও রাম মন্দিরে ভক্তদের সংখ্যা কমেনি। ট্রাস্টের মতে, এটা কোটি কোটি ভক্তের অটুট বিশ্বাসের প্রতিফলন। এর জন্য তাঁরা সাধুসন্ত, ভক্ত এবং অযোধ্যার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
জনসাধারণ এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ আরও উন্নত করতে ট্রাস্ট একজন মুখপাত্র নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি মন্দির এবং ট্রাস্ট সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সময়মতো জানাবেন। 1
মন্দিরের পুজোর পবিত্রতা এবং ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি বজায় রাখতে পূজা-অনুষ্ঠান কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন স্বামী গোবিন্দ দেব গিরি। এছাড়া সদস্য হিসেবে থাকবেন জগদ্গুরু শঙ্করাচার্য স্বামী বাসুদেবানন্দ সরস্বতী, স্বামী বিশ্বপ্রসন্নতীর্থ, স্বামী দীনেন্দ্র দাস, স্বামী কমলনয়ন দাস, মহন্ত রাজকুমার দাস, স্বামী রামানন্দ দাস এবং স্বামী মিথিলেশানন্দিনী শরণ।
ট্রাস্টের খালি থাকা ট্রাস্টি পদ পূরণের প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।
মন্দিরের সিসিটিভি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় এবং তাতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। জানানো হয়েছে, টাকা গোনার ঘরের ক্যামেরা-সহ সমস্ত নজরদারি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ নিরাপত্তা আধিকারিকদের হাতেই রয়েছে।
প্রশাসনিক স্তরে, ট্রাস্ট জানিয়েছে যে নতুন চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (CEO) নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সারা দেশ থেকে প্রায় ৫,২০০ আবেদন জমা পড়েছে। তবে, CEO নির্বাচন কমিটি এই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আরও এক মাস সময় চেয়েছে এবং ট্রাস্ট সেই অনুরোধ অনুমোদন করেছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও শক্তিশালী করতে একজন সচিব পর্যায়ের আধিকারিক নিয়োগেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে নতুন সাধারণ সম্পাদক বা CEO নিয়োগের বিষয়ে কোনও ঐকমত্য হয়নি। আপাতত কৃষ্ণ মোহন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। ট্রাস্টের পরবর্তী বৈঠক ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা হচ্ছে, সেদিনই নতুন সাধারণ সম্পাদক এবং CEO-র নাম ঘোষণা করা হবে।
ট্রাস্ট আরও জানিয়েছে যে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)-এর সাধারণ সম্পাদক বজরং লাল বাগরা বর্তমানে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য এগিয়ে রয়েছেন এবং তিনি বুধবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
দানের টাকা চুরির অভিযোগ সামনে আসার পর এটি ছিল ট্রাস্টের দ্বিতীয় বৈঠক। এর আগে, ৬ জুলাই সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে চম্পত রাই এবং ট্রাস্টি পদ থেকে অনিল মিশ্রের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত আইএফএস অফিসার কৃষ্ণ মোহনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এই দুই নেতা ২৬ জুন এই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেছিলেন। ট্রাস্ট স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং রাম মন্দিরের পবিত্রতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের মতে, ভক্তদের স্বার্থে এবং মন্দিরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্যই এই সমস্ত সংস্কার এবং প্রশাসনিক পরিবর্তন করা হচ্ছে। (এএনআই)
