- Home
- India News
- এবার স্কুলের মিড ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়া হবে পড়ুয়াদের, কবে থেকে চালু হচ্ছে রাজ্যে?
এবার স্কুলের মিড ডে মিলে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়া হবে পড়ুয়াদের, কবে থেকে চালু হচ্ছে রাজ্যে?
সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি চালুর পরিকল্পনা ফের সামনে সরকার। তবে এখনই সব স্কুলে এই খাবার চালু করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমে একটি পাইলট প্রকল্প চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য চিকেন বিরিয়ানি চালুর পরিকল্পনা ফের সামনে আনল তামিলনাড়ু সরকার। মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের ইচ্ছাতেই এই প্রস্তাব বলে জানিয়েছেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন। তবে এখনই সব স্কুলে এই খাবার চালু করা হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রথমে একটি পাইলট প্রকল্প চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী জানিয়েছেন, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে খাবার প্রস্তুত, রান্না, পরিবেশন এবং গোটা ব্যবস্থাপনার দিকগুলি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে বৃহত্তর পরিসরে এই উদ্যোগ চালু করা হবে।

প্রস্তাবটি নিয়ে বলতে গিয়ে রাজ মোহন বলেন, ‘‘যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, পুঝাল কারাগারের বন্দিরাও চিকেন বিরিয়ানি পান। আমাদের পড়ুয়ারা কেন তা পাবে না?’’ তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের সব সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারাই যাতে চিকেন বিরিয়ানি পাওয়ার সুযোগ পায়, সরকার সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন নিশ্চিত না করে তড়িঘড়ি এই প্রকল্প চালু করতে চাইছে না সরকার। মন্ত্রী বলেন, ‘‘এটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, কারণ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এর জন্য একটি পাইলট ও পরীক্ষামূলক প্রকল্প প্রয়োজন। আগামী দিনে আমরা নিশ্চিত করব, যাতে স্কুলের পড়ুয়ারা বিদ্যালয়েই চিকেন বিরিয়ানি পায়।’’
সরকারি স্কুলে চিকেন বিরিয়ানি দেওয়ার প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। গত জুলাই মাসেই বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছিল। তখন তামিলনাড়ু সরকার মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পের আওতায় সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের সপ্তাহে এক দিন চিকেন বিরিয়ানি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিল। রাজ মোহন জানিয়েছিলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের কাছে এই প্রস্তাব দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
স্কুলের খাবারের মেনুতে আমিষ খাবার যুক্ত করার বৃহত্তর আলোচনার মধ্যেই এই প্রস্তাব সামনে আসে। মন্ত্রীর যুক্তি ছিল, বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্কুলের খাবারে চিকেনের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যুক্ত করাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখা উচিত নয়। রাজ মোহনের কথায়, ‘‘তামিলনাড়ুতে শিক্ষাক্ষেত্রের বিপ্লব সবসময়ই পুষ্টির বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়েছে।’’
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সব পড়ুয়াকে বাধ্যতামূলক ভাবে চিকেন বিরিয়ানি খেতে হবে না। রাজ মোহন স্পষ্ট করেছেন, যে পড়ুয়ারা নিরামিষ খাবার পছন্দ করে, তারা নিরামিষ খাবারই পাবে। আমিষ খাবার খাওয়া পড়ুয়ারা চাইলে চিকেন বিরিয়ানি বেছে নিতে পারবে। মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, চিকেন বিরিয়ানি এখনও রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে চালু হয়নি। বরং কীভাবে বড় পরিসরে নিরাপদে এই খাবার তৈরি ও পরিবেশন করা যায়, তা নিয়েই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
পাইলট প্রকল্পে খাবার তৈরির পরিকাঠামো, স্বাস্থ্যবিধি, খাদ্যের গুণমান, সংরক্ষণ এবং পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল সন্তোষজনক হলে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি স্কুলে এই উদ্যোগ চালু করার পথে এগোতে পারে সরকার। তামিলনাড়ুতে স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টির দিকে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি সরকারি স্কুলে সকালের নাস্তার কর্মসূচিও চালু রয়েছে। পড়ুয়াদের পুষ্টি এবং স্কুলে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে খাবারের মেনুতে আরও বৈচিত্র আনার বিষয়টিও বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।