টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, ভারত এক 'অভূতপূর্ব' অর্থনৈতিক বৃদ্ধির যুগে প্রবেশ করছে। সাই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে তিনি বলেন, এআই এবং প্রযুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তাই পড়ুয়াদের সবসময় নতুন কিছু শেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, ভারত এমন এক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির যুগে পা রাখছে যা দেশের ইতিহাসে তো বটেই, গোটা বিশ্বেও 'অভূতপূর্ব'। বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), প্রযুক্তি এবং নিয়মনীতির বদল গোটা বিশ্বের অর্থনীতিকেই নতুন রূপ দিচ্ছে।
চন্দ্রশেখরন সাই ইউনিভার্সিটির সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের দুনিয়া খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে এর পাশাপাশি নতুন সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এআই-এর হাত ধরে এমন সব নতুন সেক্টর তৈরি হবে, যা আজ হয়তো আমরা ভাবতেও পারছি না। তিনি বলেন, "আপনারা এমন এক পৃথিবীতে পা রাখছেন যেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং নিয়মনীতি প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। এআই-এর হাত ধরে একটা বড়সড় বিপ্লব আসছে।"
এআই এবং অর্থনীতির নতুন সুযোগ
এআই-এর কারণে চাকরি যাওয়ার ভয় নিয়ে এখন অনেক চর্চা হচ্ছে। তবে চন্দ্রশেখরন মনে করেন, এই প্রযুক্তি আসলে নতুন সুযোগের দরজাও খুলে দিচ্ছে। তাঁর কথায়, "দুনিয়া এখন সম্ভাবনায় ভরপুর। আজ থেকে পাঁচ বছর পর এমন অনেক শিল্প তৈরি হবে, যার অস্তিত্ব আজ নেই।" এমনকি সেই সব শিল্পের নামও হয়তো আজ আমাদের অজানা।
তিনি আরও জানান, ভারত এখন খুব 'শক্তিশালী জায়গায়' রয়েছে। আগামী কয়েক দশক ধরে দেশে এমন অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দেখা যাবে, যা আগে কখনও হয়নি।
পড়ুয়াদের জন্য 'ম্যারাথন মাইন্ডসেট'
চন্দ্রশেখরন পড়ুয়াদের কেরিয়ারে সফল হতে 'ডুয়াল রেস' বা জোড়া দৌড়ের মানসিকতা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ছোট ছোট সাফল্যগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কাজের গতি বজায় থাকে।
তিনি কেরিয়ারের জন্য নিজেকে সবসময় প্রস্তুত রাখার কথাও বলেন। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে ম্যারাথন দৌড়ের মতো এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের উন্নতির দিকে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, "নিজের কাজের অগ্রগতি দিয়ে নিজেকে বিচার করুন। আপনি যা করতে চান, সেদিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান।" প্রস্তুতির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি বিখ্যাত ম্যারাথন রানার জুমা ইকাংগার (Yuma Ikanga) একটি উক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "প্রস্তুতি নেওয়ার ইচ্ছে না থাকলে, জেতার ইচ্ছের কোনও দাম নেই।"
সাফল্যের ৬টি গুণ
চন্দ্রশেখরন এই পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পড়ুয়াদের ৬টি গুণের কথা বলেছেন। এগুলো হলো— সবসময় নতুন কিছু শেখা, কৌতূহল, একসঙ্গে কাজ করা, সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্লেষণ এবং বড় লক্ষ্য স্থির করা।
তিনি বলেন, "সবসময় শিখতে থাকুন। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে আপনি পিছিয়ে পড়বেন।" প্রথাগত পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও শেখার অভ্যাসটা সারাজীবন ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
তিনি পড়ুয়াদের সবসময় কৌতূহলী থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। আলাদা আলাদা দক্ষতা থাকা মানুষদের সঙ্গে কাজ করা এবং ব্যবসায় সৃজনশীলতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, "ব্যবসায় সৃজনশীলতার দাম সবচেয়ে বেশি।" পাশাপাশি নিজের কাজ এবং শিক্ষা নিয়ে নিয়মিত আত্মবিশ্লেষণ করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষে চন্দ্রশেখরন পড়ুয়াদের 'বড় লক্ষ্য' স্থির করার কথা বলেন। পেশাদার জীবনের শুরুতে বড় স্বপ্ন দেখার এবং সাহসী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
