বিশ্বের দ্রুততম মানব উসেইন বোল্টের রেকর্ড আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেনি। কিন্তু এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিল চিনের তৈরি একটি রোবট, যা মাত্র তিন মাসে তৈরি করা হয়েছে।
বেজিং (২০ অগাস্ট): বিশ্বের দ্রুততম দৌড়বীর হিসেবে পরিচিত উসেইন বোল্ট অবসর নিয়েছেন বহু বছর হল। কিন্তু তাঁর গতির রেকর্ড আজও কেউ ভাঙতে পারেনি। আটবারের অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী বোল্টের সেই রেকর্ড এবার ভেঙে দিল চিনের একটি 'সুপারম্যান' রোবট। মাত্র তিন মাসে তৈরি এই রোবটটি প্রতি সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার বেগে দৌড়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
উসেইন বোল্টের রেকর্ড চুরমার
২০০৯ সালে ১০০ মিটার দৌড়ে উসেইন বোল্ট একটি নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। তখন তিনি প্রতি সেকেন্ডে ১২.৪২ মিটার বেগে দৌড়েছিলেন। আর এখন চিনের এই সুপারম্যান রোবটটি প্রতি সেকেন্ডে ১২.৬৬ মিটার বেগে দৌড়ে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর মাধ্যমে রোবটটি ক্রীড়াবিদদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল।
রোবট নির্মাতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই রোবটটি সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে দৌড়তে সক্ষম। পরীক্ষামূলক দৌড়েই এটি উসেইন বোল্টের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। যেখানে বোল্টের সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ৪৪.৭৪ কিলোমিটার। বিশেষ ব্যাপার হলো, দ্রুত দৌড়ানোর সময়ও রোবটটি যাতে তার ছন্দ বা ভারসাম্য না হারায়, সেভাবেই এটিকে ডিজাইন করা হয়েছে। হালকা অথচ মজবুত কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি বডির সাথে ইলেকট্রিক মোটর জোড়া হয়েছে। রোবটের চিপগুলো শরীরের ভারসাম্য বজায় রেখে মোটরকে শক্তি জোগায়, যার ফলে এর গতি আরও বাড়ে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এটি মাত্র ৩ মাসের একটি পরীক্ষামূলক প্রজেক্ট ছিল এবং এই রোবটটিকে আরও উন্নত করা হবে।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এর স্মার্ট ব্যালেন্সিং সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে। এতে বিশেষ AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। মাটির অবস্থা যেমনই হোক না কেন, পায়ের নড়াচড়া সেভাবে মানিয়ে নেওয়ার প্রযুক্তিও রয়েছে এতে। এই রোবটের রেকর্ড নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন জোর আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করছেন, প্রযুক্তি যেভাবে মানুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাঁদের মতে, প্রযুক্তি যদি মানুষের সীমা অতিক্রম করে, তবে বিপদ আসন্ন। তবে অনেকেই আবার এই সাফল্যের প্রশংসাও করেছেন।
চিনে এখন AI এবং রোবোটিক্সে বিপ্লব ঘটছে। আমেরিকা-র টেসলা এবং বস্টন ডাইনামিক্সের মতো সংস্থাগুলোকে কড়া টক্কর দিচ্ছে চিন। চিনের রোবোটিক প্রযুক্তি এখন গোটা বিশ্বের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। প্রযুক্তিকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করছে চিন।


