Trump on 9/11 Attacks: ৯/১১ জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তির আগে সেই ভয়াবহ সকালের স্মৃতিচারণ করলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে তাঁর চোখের সামনে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবীটা আর আগের মতো থাকবে না।

৯/১১ জঙ্গি হামলার বর্ষপূর্তি যত এগিয়ে আসছে, ততই সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতিগুলো ফিরে আসছে। ২০০১ সালের সেই সকালে কীভাবে পৃথিবীটা চিরদিনের জন্য বদলে গিয়েছিল, সেই কথাই শোনালেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ ইয়র্ক শহর কীভাবে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তারও প্রশংসা করেন তিনি।

৯/১১ জঙ্গি হামলা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের স্মৃতিচারণ

চোখের সামনে হামলা

ফক্স নিউজের 'গাউডি আমেরিকা' অনুষ্ঠানে ট্রে গাউডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা মনে করেন। তিনি জানান, মিডটাউন ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকেই তিনি এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখেছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, "আমি তখন সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ টিভিতে একটা বিজনেস শো দেখছিলাম... হঠাৎ করেই ওরা অন্য সব খবর থামিয়ে দিয়ে বলতে শুরু করল যে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের এক নম্বর টাওয়ারের উপরের দিকে আগুন লেগেছে। ওরা বলছিল, হয়তো বয়লার ফেটেছে। কিন্তু আমি তো জানি, বয়লার থাকে বেসমেন্টে, বাড়ির মাথায় নয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "সুতরাং এটা বয়লার ছিল না। খুব কম লোকই প্লেনটাকে ধাক্কা মারতে দেখেছিল। আমার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার দেখা যেত। ওটা ডাউনটাউনে হলেও খুব দূরে নয়, ১১৫ তলার একটা বিশাল বিল্ডিং।"

দ্বিতীয় বিমান হামলা চোখের সামন হয় ট্রাম্পের

দ্বিতীয় বিমানটিকে এগিয়ে আসতে দেখার সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "আমি পুরো ঘটনাটা দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, এটা কী করে সম্ভব! হয়তো কোনও মিসাইল বা অন্য কিছু হবে, কিন্তু বয়লার বা এয়ার কন্ডিশনারের মতো কিছু নয়। তারপর আমি দেখলাম দ্বিতীয় প্লেনটা এসে ধাক্কা মারল। আমি বছরের পর বছর ধরে বিমানের গতিপথ লক্ষ্য করেছি, ওরা হাডসন নদীর ওপর দিয়ে যায়। কিন্তু এই প্লেনটা সোজা দ্বিতীয় বিল্ডিংয়ের দিকে আসছিল। আমি বললাম, ওয়াও! তখনই আমি বুঝেছিলাম, আমরা একটা অন্য সময়ে ঢুকে পড়লাম। আমি বলেছিলাম, পৃথিবীটাই এইমাত্র বদলে গেল।"

নিউইয়র্কের ঘুরে দাঁড়ানোর স্মৃতি ট্রাম্পের গলায়

ঘটনার পরদিন ট্রাম্প নিজে সেই জায়গায় গিয়েছিলেন। শহরের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা এবং ধ্বংসস্তূপ সরানোর বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি নিউ ইয়র্কে একটা বিল্ডিং তৈরি করছিলাম, তাই আমার সঙ্গে অনেক নির্মাণকর্মী ছিলেন। ঘটনার ঠিক পরের দিনই আমি ওখানে যাই। সেই দিন যাওয়া সম্ভব ছিল না। আমরা সেখানে অনেক কাজ করেছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতিটা এতটাই ভয়াবহ আর হতাশাজনক ছিল...। লোকে নিউ ইয়র্ককে নিয়ে যা খুশি বলুক, কিন্তু ওরা এত দ্রুত সবটা আবার গুছিয়ে নিয়েছে, যা অবিশ্বাস্য। ওই ধ্বংসস্তূপ সরানোটা একটা পাহাড় সরানোর মতো ছিল, কারণ বিল্ডিংগুলো বিশাল ছিল।"

নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কত দ্রুত তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি বলেন, "বিল্ডিংগুলো সোজা নিচে ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি সব পরিষ্কার করা হয়। নতুন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কাজ অনুমোদন পায় এবং দ্রুত বিল্ডিংটা তৈরিও হয়ে যায়। এটা আশ্চর্যজনক ছিল। খুব কম সময়ের মধ্যেই নতুন বিল্ডিংটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। আমার মনে হয়, নিউ ইয়র্ক এই কৃতিত্বটা সেভাবে পায়নি। অন্য অনেক জায়গায় হলে এটা শুরু করতেই বছরের পর বছর লেগে যেত।"

১১ সেপ্টেম্বরের ২৫তম বার্ষিকী

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর এই হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালিত হবে। এই দিনটি আমেরিকা এবং তার জাতীয় সুরক্ষা নীতিকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছিল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, আল-কায়দার ১৯ জন জঙ্গি চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে আমেরিকায় হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের সদর দফতর পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি মাঠে ভেঙে পড়ে। যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ২,৯৭৭ জন মানুষ মারা যান, যা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা।

টুইন টাওয়ার ধ্বংস এবং পেন্টাগনে হামলার পরেই আমেরিকা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক নতুন যুগে প্রবেশ করে। নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোতে, যেখানে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ছিল, সেখানে প্রতি বছর নিহতদের স্মরণ করা হয়। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নাম পড়ে শোনান।

এই হামলার মূল চক্রী ছিল আল-কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেন। এই ঘটনার পরেই ওয়াশিংটন আল-কায়দার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান শুরু করে এবং ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে হামলা চালায়।

এই সপ্তাহে গোটা আমেরিকায় 'প্যাট্রিয়ট ডে' এবং 'ন্যাশনাল ডে অফ সার্ভিস অ্যান্ড রিমেমব্রেন্স' পালিত হচ্ছে। নীরবতা পালন, নিহতদের নাম পড়া এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে সেই দিনের স্মৃতিকে স্মরণ করা হয়। ট্রাম্পের এই স্মৃতিচারণা সেই ভয়ঙ্কর ট্র্যাজেডির মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।