এ যেন 'শেষ হয়েও হইল না শেষ'। রাজ্যের একাধিক সরকারি কোভিড হাসপাতাল ঘুরেও মিলল না চিকিৎসা। শেষপর্যন্ত শনিবার সকালে ওই করোনা সন্দেহভাজনের মৃত্য়ু হয়। তবে এর মাঝে ঘটে গিয়েছে  সরকারি বিধি লঙ্গনের ঘটনাও বলে অভিযোগ মৃতের দাদার। 

আরও পড়ুন, করোনা সংক্রমণে ফের নতুন রেকর্ড রাজ্যের, একদিনে আক্রান্ত প্রায় ১২০০

মৃতের দাদা জানিয়েছেন,তার ভাইয়ের প্রথমে শুধু শরীরে অস্বস্তি ও শুধুমাত্র শ্বাসকষ্ট ছিল। কোনও জ্বর, সর্দি,কাশি  ছিল না। এরপর তাঁরা ভাইকে কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে গেলে সুগার পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ধরা পরে ভাই এর হাই সুগার আছে। এই পরিস্থিতিতে 'আইসিইউ' এর কারন দেখিয়ে বেলঘড়িয়া  মিডল্যান্ড বেসরকারি নার্সিংহোমে রেফার করে দেয় কামারহাটি ইএসআই হাসপাতাল। ভর্তি করাতে গেলে নার্সিংহোম বলে,' করোনা পরীক্ষা ছাড়া আমরা ভর্তি নিতে পারবো না'। কিন্তু তারপর যা ঘটে সেটা বোধয় এখনও অবধি রাজ্য়ে ঘটেনি। 

আরও পড়ুন, 'মানসিক অবসাদে' কোয়ার্টার থেকে ঝাপ পুলিশ কর্মীর, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি আরজিকরে

বেলঘড়িয়া  মিডল্যান্ড বেসরকারি নার্সিংহোমের তরফে জানানো হয়, 'কোভিড হাসপাতাল নই আমরা, আপনি অন্য কোথাও রোগীকে  নিয়ে যান।'  কিন্তু তাঁরা রোগীর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করে একটি রিপোর্ট বানিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয় রিপোর্টটি হাতে লেখা পুরো। করোনা পরীক্ষাটি করতে তাঁদের নাকি সময় লেগেছে মাত্র ৫ মিনিট বলে দাবি মৃতের ভাই-এর।  এরপরে আবার  সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেড না থাকার অজুহাত শোনায় বলে অভিযোগ। তারাও রেফার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজে। তবে এরপরেও হয়রানির হওয়ার আসল পর্ব বাকি ছিল। 

অবশেষে তাঁরা অসহায় অবস্থায় অসুস্থ ভাইকে নিয়ে  কলকাতা মেডিক্য়ালের উদ্দেশ্য়ে রওনা হয়।  সেখানেও প্রথমে দীর্ঘক্ষন ভর্তি নেওয়া হয় না।  এরপর ভর্তি না নেওয়ায় ধৈর্য্য হারিয়ে  চিৎকার চেঁচামেচি করে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী কথা বলে করোনা সন্দেহভাজন ওই যুবক। অবশেষে শুক্রবার বিকেলে ভর্তি করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এত কিছু করেও শেষ রক্ষা হল না। ব্য়থায় জর্জরিত হয়ে দাদা জানিয়েছেন, 'ভাইকে বাঁচানো গেল না।  এরপরেও বাকি আছে', বলে থামেন দাদা।

আরও পড়ুন, 'আক্রান্তরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে ১৮ দিন পার-এখন লকডাউন করে কী লাভ', ক্ষুব্ধ হরিদেবপুরবাসী


শহরের একাধিক সরকারি  হাসপাতাল ওই করোনা উপসর্গের রোগীকে ফিরিয়ে দিয়েছে। অজুহাতের পর অজুহাতে বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁকে ভুগতে হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের দাদার। এদিকে ভাইএর মৃত্য়ু পরও যেনও বিরাম নেই। এখনও হয়তো বাকি পড়ে আছে আরও কিছু পর্ব। কারণ দাদা জানিয়েছেন, 'কলকাতা মেডিক্য়াল আমার ভাই এর বডি দেয়নি। কোভিড টেস্ট না করে মেডিক্য়াল কলেজ হাসপাতাল ডেডবডি দেবে না।'
 

 

   পূর্ব ভারতের প্রথম সরকারি প্লাজমা ব্যাঙ্ক-কলকাতা মেডিকেল, করোনা রুখতে প্রস্তুতি তুঙ্গে

  মৃত্যুর পর ২ দিন বাড়ির ফ্রিজে করোনা দেহ, অভিযোগ 'সাহায্য মেলেনি স্বাস্থ্য দফতর-পুরসভার'

 করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এক সেনা কর্তার, ফোর্ট উইলিয়ামের শোকের ছায়া

  অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকলের পরও কোভিড জয়ী ৫৪-র দুধ ব্যবসায়ী, শহরকে দিলেন এক সমুদ্র আত্মবিশ্বাস

কোভিড রোগী ফেরালেই লাইসেন্স বাতিল, হাসপাতালগুলিকে হুঁশিয়ারি রাজ্য়ের