পেয়ারার খোসা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টে ভরপুর, যা ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস থাকলে খোসা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এটি রক্তে শর্করা এবং লিপিড প্রোফাইল বাড়াতে পারে।
পেয়ারা প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। এটি এমন একটি ফল যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমে সাহায্য করে। অনেকেই পেয়ারার খোসা ছাড়িয়ে খান। আসলেই কি পেয়ারার খোসা খাওয়াতে কোনো সমস্যা আছে? পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন তার ইনস্টাগ্রাম পেজে শেয়ার করা একটি পোস্টে এই বিষয়ে বলেছেন।
পেয়ারাকে অন্যতম স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে আপনি কীভাবে এটি খাচ্ছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। খোসাসহ পেয়ারা খেলে পটাসিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন সি-এর মতো মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়। এটি ত্বকের গঠন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। তবে, আপনার যদি উচ্চ কোলেস্টেরল বা ডায়াবেটিস থাকে, তবে খোসা এড়িয়ে চলাই ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, খোসাসহ পেয়ারা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এবং লিপিড প্রোফাইল বাড়তে পারে। তাই, যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বা কোলেস্টেরল বেশি, তাদের জন্য খোসা ছাড়া পেয়ারা বেশি উপকারী।
পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। এই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে, সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ পেয়ারা স্বাস্থ্যকর হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।
পেয়ারাতে লাইকোপিন এবং ভিটামিন এ-এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা বার্ধক্যের প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। নিয়মিত এটি খেলে ত্বকের গঠন উন্নত হয় এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আসে।
পেয়ারার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ বজায় রাখতে এবং হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। 'জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এবং অংশগ্রহণকারীদের লিপিড প্রোফাইল উন্নত হয়।


