দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম পাওয়া মানেই অলসতা নয়। বিজ্ঞান বলছে সঠিক নিয়মে দুপুরে ঘুম শরীরের জন্য অমৃত হতে পারে, আবার ভুল নিয়মে ঘুমই ডেকে আনবে বড় রোগ।

বাঙালির দুপুর মানেই ভাতঘুম। গরম ভাত খেয়ে একটু গড়িয়ে না নিলে যেন দিনটাই বৃথা। কিন্তু এই দুপুরের ঘুম কি আদৌ ভালো? নাকি শরীরের জন্য বিষ? এই নিয়ে বহুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অবশেষে বিজ্ঞান যা ফাঁস করল, জানলে আপনি চমকে যাবেন।

দুপুরের ঘুম - অমৃত কখন?

গবেষণা বলছে, সঠিক নিয়মে দুপুরে ঘুম শরীরের জন্য সুপারফুডের মতো কাজ করে।

১. ব্রেনের ক্ষমতা বাড়ে: দুপুরে ২০ মিনিটের ঘুমকে বলা হয় 'Power Nap'। এটি আপনার মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং কাজের গতি ৩০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। NASA-র গবেষণায় দেখা গেছে, পাইলটদের ২৬ মিনিটের ঘুম তাদের পারফরম্যান্স ৩৪% বাড়ায়।

২. হার্ট ভালো থাকে: যারা সপ্তাহে ১-২ বার দুপুরে ঘুমান, তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪৮% কম থাকে। ঘুমের সময় রক্তচাপ কমে, হার্ট বিশ্রাম পায়।

৩. স্ট্রেস কমে: দুপুরের ছোট ঘুম কর্টিসল হরমোন কমিয়ে মুড ভালো করে দেয়।

বিষ হয়ে যায় কখন?

সমস্যা হয় যখন আপনি ভুল নিয়মে ঘুমান।

১. ১ ঘণ্টার বেশি ঘুমালে: আপনি যদি দুপুরে ১ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাহলে শরীর Deep Sleep-এ চলে যায়। তখন ঘুম থেকে উঠে মাথা ভার, ক্লান্তি লাগে। একে বলে Sleep Inertia। গবেষণা বলছে, রোজ ১ ঘণ্টার বেশি দুপুরে ঘুমালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৪৬% এবং হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

২. বিকেল ৩টের পর ঘুমালে: বিকেল ৩টের পর ঘুমালে রাতের ঘুমের ১২টা বেজে যায়। ফলে ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা শুরু হয়।

৩. ভুল ভঙ্গিতে ঘুমালে: চেয়ারে বসে বা সোফায় কাত হয়ে ঘুমালে ঘাড়ে ও কোমরে ব্যথা হয়, হজমের সমস্যা হয়।

তাহলে সঠিক নিয়ম কী? বিজ্ঞান যা বলছে:

১. সময়: দুপুরের খাবারের ১ ঘণ্টা পর, দুপুর ১টা থেকে ৩টের মধ্যে ঘুমান। ২. সময়সীমা: আদর্শ সময় হল ১৫ থেকে ৩০ মিনিট। কখনও ৪৫ মিনিটের বেশি নয়। অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমান। ৩. জায়গা: অন্ধকার, ঠান্ডা জায়গায় ঘুমান। ঘুমের আগে কফি খাবেন না। ৪. কাদের ঘুমানো উচিত নয়: যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা আছে, যাদের ডিপ্রেশন আছে, তাদের দুপুরে ঘুম এড়িয়ে চলাই ভালো।

তাই ভাতঘুম খারাপ নয়, যদি আপনি ২০ মিনিটের পাওয়ার ন্যাপ নেন। এটা আপনার শরীরকে রিচার্জ করে দেবে।