বর্ষায় এডিস মশার কারণে চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ বাড়ে, যার প্রধান লক্ষণ হলো জ্বর ও গাঁটে ব্যথা। এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকায়, জল জমতে না দেওয়া এবং মশার কামড় থেকে বাঁচার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াই একমাত্র উপায়।
বর্ষা আসতেই চিকুনগুনিয়ার কেস বাড়ছে বলে রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। এই রোগ ছড়ায় মূলত এডিস ইজিপ্টি (Aedes aegypti) এবং এডিস অ্যালবোপিকটাস (Aedes albopictus) মশার কামড়ে। ফুলের টব, বালতি, বাতিল টায়ার, কুলার, নারকেলের খোলা বা ঢাকা ছাড়া জলের ট্যাঙ্কের মতো জায়গায় জমে থাকা পরিষ্কার জলে এই মশা ডিম পেড়ে বংশবৃদ্ধি করে।
এই রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো—প্রচণ্ড জ্বর, গাঁটে গাঁটে ব্যথা ও ফোলা ভাব, অসহ্য মাথা ব্যথা, গা-হাত-পায়ে ব্যথা এবং ক্লান্তি। এছাড়াও, ত্বকে চুলকানি ও লাল র্যাশ দেখা দিতে পারে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, চিকুনগুনিয়া একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে সরাসরি ছড়ায় না। একমাত্র সংক্রমিত মশা কামড়ালেই এই রোগ হতে পারে। একবার രോഗাক্রান্ত হলে একজন ব্যক্তি প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভাইরাসের উৎস হিসেবে কাজ করতে পারেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে অবশ্যই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানাচ্ছে, মশা কামড়ানোর সাধারণত চার থেকে আট দিনের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষাকালে মশার বংশবৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। এর ফলে তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে এবং ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অতীতে কেরালায় চিকুনগুনিয়ার বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এখনও পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই। তাই এর চিকিৎসা মূলত উপসর্গ কমানোর উপরেই জোর দেয়। এর জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া এবং জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামলের মতো ওষুধ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময়েই চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলো ডেঙ্গি এবং অন্যান্য ভাইরাল জ্বরের মতো হতে পারে, তাই পরীক্ষা করা জরুরি।
চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচতে কী করবেন?
১. বাচ্চাদের ফুলহাতা শার্ট এবং লম্বা প্যান্ট পরান। বিশেষ করে দিনের বেলায়, কারণ এডিস মশা দিনের বেলাতেই বেশি সক্রিয় থাকে।
২. জানালায় নেট লাগান এবং প্রয়োজনে মশারি ব্যবহার করুন।
৩. জল জমানোর পাত্র প্রতি সপ্তাহে খালি করে ভালো করে পরিষ্কার করুন।
৪. বাড়ির বারান্দা, বাগান, কুলার এবং বাইরের খেলার জায়গায় যাতে জল না জমে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৫. যে সময়ে মশার উপদ্রব বেশি থাকে, তখন যতটা সম্ভব বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন।


