Health News: ফ্যাটি লিভারের কোনো স্পেসিফিক ওষুধ নেই। ডাক্তার যে ট্যাবলেট দেয় সেগুলো সাপোর্টিভ। আসল ওষুধ হল আপনার খাবার, ঘুম আর হাঁটা। 80% ফ্যাটি লিভার গ্রেড-1 ও 2 শুধু লাইফস্টাইল বদলেই রিভার্স হয়। চিনি ছাড়ুন, 30 মিনিট হাঁটুন, রাত 11টার আগে ঘুমান।
Health News: USG করে দেখলেন ফ্যাটি লিভার গ্রেড-2? ডাক্তার 4 রকম ওষুধ লিখে দিল। মাসে 2000 টাকা যাচ্ছে। কিন্তু 6 মাস পরেও রিপোর্ট সেম। কারণ ফ্যাটি লিভার ওষুধে সারে না, অভ্যাসে সারে। লিভার হল শরীরের কারখানা। সেখানে চর্বি জমলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। ডায়াবেটিস, প্রেসার, হার্ট অ্যাটাক সব লাইন দিয়ে আসবে। দাঁড়ান। ওষুধের পিছনে ছোটার আগে এই 5টা বদল 90 দিন করুন। লিভার নিজেই নিজেকে হিল করে নেবে। গ্যারান্টি।

ওষুধ কেন কাজ করে না? ফ্যাটি লিভারের আসল কারণটা কী
নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বা NAFLD-এর মেইন কারণ 3টা। এক, বেশি চিনি আর ময়দা। কোল্ড ড্রিংকস, বিস্কুট, পাউরুটি, সাদা ভাত খেলে লিভার সেটাকে ফ্যাট বানিয়ে জমিয়ে রাখে। দুই, না হাঁটা। বসে থাকলে লিভারের ফ্যাট বার্ন হয় না। তিন, পেটের ভুঁড়ি। পেটের চর্বি সরাসরি লিভারে গিয়ে জমা হয়। এটাকে বলে ভিসেরাল ফ্যাট। ওষুধ এই 3টার একটাকেও ঠিক করে না। ওষুধ শুধু লিভারকে একটু রেস্ট দেয়। আপনি যদি ট্যাংকিতে রোজ নোংরা জল ঢালেন, ফিল্টার লাগিয়ে লাভ আছে? তাই আগে নোংরা জল ঢালা বন্ধ করুন। মানে লাইফস্টাইল ঠিক করুন।
ওষুধ ছাড়া লিভার হিল করার ৫টা বদল: 90 দিনের চ্যালেঞ্জ
প্রথম বদল: চিনি আর ময়দাকে ‘বিষ’ ভাবুন। চিনি, গুড়, মধু, কোল্ড ড্রিংকস, মিষ্টি, প্যাকেট জুস টোটাল বন্ধ 90 দিন। ভাত এক বেলা, তাও লাল চাল বা ব্রাউন রাইস। রুটি হলে আটা+ছোলা+জোয়ার মিক্স। ময়দার বিস্কুট, পাউরুটি, চাউমিন, পাস্তা বাদ। 15 দিনেই SGPT 20 পয়েন্ট কমবে। কারণ লিভার চিনি পেলেই ফ্যাট বানায়। চিনি বন্ধ মানে ফ্যাট বানানো বন্ধ।
দ্বিতীয় বদল: রোজ 30 মিনিট জোরে হাঁটা। জিম লাগবে না। শুধু এমন স্পিডে হাঁটুন যাতে কথা বলতে কষ্ট হয়। এতে লিভারের জমা ফ্যাট গলতে শুরু করে। পারলে খাওয়ার 30 মিনিট পর 15 মিনিট হাঁটুন। সুগার লিভারে জমবে না। স্টাডি বলছে সপ্তাহে 150 মিনিট হাঁটলে ফ্যাটি লিভার 40% কমে।
তৃতীয় বদল: রাত 11টার আগে ঘুম আর 8 ঘণ্টা। রাত জাগলে বডিতে কর্টিসল বাড়ে। কর্টিসল লিভারকে বলে ‘আরো ফ্যাট জমা’। রাত 11টা থেকে 3টা লিভারের ডিটক্স টাইম। তখন জেগে থাকলে লিভার পরিষ্কারই হতে পারে না। ফোন 10টায় বন্ধ।
চতুর্থ বদল: পেটের মাপ 4 ইঞ্চি কমান। ছেলেদের কোমর 35 ইঞ্চির নিচে, মেয়েদের 31 ইঞ্চির নিচে আনতে হবে। কীভাবে? ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করুন। রাত 8টায় ডিনার শেষ, পরদিন সকাল 10টায় ব্রেকফাস্ট। 14 ঘণ্টা গ্যাপ। এই গ্যাপে লিভার জমা ফ্যাট খেয়ে বাঁচে। ভুঁড়ি কমলেই ফ্যাটি লিভার 80% কমে যাবে।
পঞ্চম বদল: 2টো সুপারফুড অ্যাড করুন। এক, সকালে খালি পেটে 1 গ্লাস গরম জলে হাফ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা + এক চিমটি গোলমরিচ। হলুদের কারকিউমিন লিভারের ইনফ্লেমেশন কমায়। দুই, রাতে ঘুমানোর আগে 1 চামচ ইসবগুলের ভুষি। এটা খারাপ কোলেস্টেরল টেনে বের করে দেয়, লিভারের উপর চাপ কমায়। সাথে রোজ 3-4 লিটার জল।
কী খাবেন, কী খাবেন না: ফ্যাটি লিভারের ডায়েট চার্ট
খাবেন: সবুজ শাক, ব্রকলি, বিনস, উচ্ছে, পটল। প্রোটিনের জন্য মাছ, ডিমের সাদা অংশ, টক দই, ছোলা, মুসুর ডাল। ভালো ফ্যাটের জন্য 5টা কাঠবাদাম, 2টো আখরোট, 1 চামচ ফ্ল্যাক্স সিড। রান্নায় সর্ষের তেল বা অলিভ অয়েল। গ্রিন টি দিনে 2 কাপ। কফি খেলে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি।
খাবেন না: রেড মিট, চিংড়ি, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, ডালডা, প্যাকেট চিপস, সস, মেয়োনিজ। ফ্রুট জুসও না, আস্ত ফল খান। আঙুর, আম, কলা, লিচু কম। পাকা পেঁপে, আপেল, জাম, গাব ভালো। অ্যালকোহল 100% বারণ। এক ফোঁটাও না। সফট ড্রিংকস আর অ্যালকোহল লিভারের জন্য সমান খারাপ।
কখন ডাক্তার মাস্ট? কোন সিম্পটম বিপদ সিগন্যাল
যদি পেটের ডান দিকে উপরে সবসময় ব্যথা থাকে, চোখ-মুখ হলুদ হয়ে যায়, পা ফুলে যায়, বা ওজন হঠাৎ কমতে থাকে, তাহলে দেরি করবেন না। এটা গ্রেড-3 বা সিরোসিসের দিকে যাচ্ছে। SGPT, SGOT যদি 200-র উপর থাকে, FibroScan রিপোর্ট খারাপ আসে, তাহলে হেপাটোলজিস্ট দেখান। প্রেগনেন্সি, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড থাকলে নিজে নিজে ডায়েট চেঞ্জ না করে ডাক্তার + ডায়েটিশিয়ান-এর পরামর্শ নিন। এই 5টা বদল গ্রেড-1 আর 2-এর জন্য। গ্রেড-3 মানে লিভারে ফাইব্রোসিস শুরু, তখন মেডিকেল হেল্প লাগবেই।
ওষুধ কোম্পানি চায় আপনি সারাজীবন ট্যাবলেট খান। কিন্তু আপনার লিভার চায় আপনি 30 মিনিট হাঁটুন আর চিনি ছাড়ুন। চয়েস আপনার। আজ থেকে এই 5টা বদল শুরু করুন। 30 দিন পর LFT টেস্ট করান। রিপোর্ট নিজেই কথা বলবে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


