এক সময় "আধুনিকতা"র নামে আলাদা বিছানা হয়েছিল। ২০২৬-এ এসে নতুন বাবা-মায়েরা আবার ফিরছেন মা-ঠাকুমার নিয়মে। কো-স্লিপিং এখন শুধু আবেগ নয়, বিজ্ঞানও এর পক্ষে।
আমাদের ছোটবেলা মনে আছে? মা-বাবার মাঝখানে, দাদুর পাশে গুটিসুটি মেরে ঘুমানো। গল্প শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে পড়তাম টেরই পেতাম না। তারপর এল "আধুনিক প্যারেন্টিং"। বাচ্চা হলেই আলাদা ঘর, আলাদা খাট। বলা হল এতে নাকি বাচ্চা স্বাবলম্বী হবে। কিন্তু ২০২৬-এ এসে সেই চাকা আবার ঘুরছে। ইনস্টাগ্রামে #CoSleeping এখন ভাইরাল। নতুন প্রজন্মের বাবা-মায়েরা আবার সন্তানকে বুকের কাছে নিয়ে ঘুমোচ্ছেন। মা-ঠাকুমারা যেটা করতেন, সেটাকেই এখন "সায়েন্টিফিক" বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন ডাক্তাররা।
*কো-স্লিপিং আসলে কী এবং কেন ফিরছে*?
এক বিছানায় শুধু ঘুম নয়, ভরসাও থাকে।কো-স্লিপিং মানে খুব সোজা। হয় বাচ্চা আপনার ঘরেই থাকবে, নাহলে একদম আপনার পাশেই ঘুমাবে। আগে এটাকে "বদভ্যাস" বলা হত। এখন বলা হচ্ছে "বন্ডিং"।
এর কারণও খুব পরিষ্কার। প্রথমত বাচ্চারা মা-বাবার গায়ের গন্ধ, নিঃশ্বাসের শব্দ পেলে অনেক বেশি সিকিউর ফিল করে। ফলে রাতে কম ওঠে, কম কাঁদে। মায়েদের রাত জেগে ব্রেস্টফিড করাতেও সুবিধা হয়।
দ্বিতীয়ত বাবা-মায়েরও উপকার। বারবার উঠে অন্য ঘরে যেতে হয় না। পাশে বাচ্চা থাকলে টেনশন কমে। আর টেনশন কমলে ঘুমটাও ভালো হয়। সবচেয়ে বড় কথা, ছোট থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে শরীরী কাছাকাছি থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস আর মানসিক জোর বাড়ে বলে গবেষণাও বলছে।
*তাহলে কি চোখ বন্ধ করে কো-স্লিপিং করবেন :*
একদমই না। আবেগে ভেসে গেলে বিপদ। ডাক্তাররা বলছেন কো-স্লিপিং করতে গেলে সেফটির কয়েকটা জিনিস মাথায় রাখতেই হবে।
বিছানাটা হতে হবে শক্ত। নরম গদি, পুরু লেপ আর অনেক বালিশ থাকলে বাচ্চার শ্বাস আটকে যাওয়ার রিস্ক থাকে। তাই ঘুমানোর জায়গা যতটা সম্ভব ফাঁকা রাখুন। আর বিছানা দেওয়ালের সাথে একদম সেঁটে দেবেন না, মাঝে ফাঁকা যেন না থাকে।
আর সবচেয়ে জরুরি, বাবা-মা কেউ যদি ধূমপান করেন, মদ খান বা ঘুমের ওষুধ খান তাহলে একদমই একসঙ্গে ঘুমানো যাবে না। বিশেষ করে ৬ মাসের কম বয়সী বা অপরিণত বাচ্চার ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া শুরু করবেন না।
*রাতের বেলাতেও সম্পর্কটা বেঁচে থাকুক*:
আলাদা ঘুমানো খারাপ আর একসঙ্গে ঘুমানো ভালো, ব্যাপারটা এমন নয়। প্রতিটা পরিবারের নিজস্ব গল্প আছে। কারো বাড়িতে জায়গার অভাব, কারো আবার কাজের জন্য আলাদা ঘুমাতেই হয়।
কিন্তু মা-ঠাকুমারা যে নিয়ম হাজার বছর ধরে করে এসেছেন, সেটা যে একদম ভুল ছিল না, এটা বিজ্ঞানও এখন মানছে। কো-স্লিপিং শুধু ঘুম নয়, এটা মা আর সন্তানের মধ্যে একটা অদৃশ্য সুতো। যেটা দিনের ব্যস্ততার পর রাতেও দুজনকে জুড়ে রাখে।
আজকাল আমরা সবাই ফোন, কাজ, টেনশনে এত ডুবে থাকি যে সন্তানকে সময়ই দিতে পারি না। রাতের ওই কয়েক ঘণ্টা যদি একটু কাছাকাছি থাকা যায়, একটা নিঃশ্বাসের শব্দে যদি দুজনেরই শান্তি হয়, তাহলে ক্ষতি কী?
হয়তো ৫ বছর পর বাচ্চা নিজেই আলাদা ঘুমাতে চাইবে। কিন্তু ওই ছোটবেলার রাতগুলো, মায়ের বুকের উষ্ণতা, বাবার পিঠের ভরসা - এগুলো ও সারাজীবন মনে রাখবে। তাই ট্রেন্ডের জন্য নয়, মনের টানে যদি ইচ্ছা হয়, একবার ট্রাই করে দেখুন।


