Darjeeling Tourism: দার্জিলিং এখন পর্যটকের চাপে জর্জরিত। ম্যালে পা ফেলার জায়গা নেই, রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম। তাই যারা নিরিবিলিতে পাহাড়কে উপভোগ করতে চান, তারা এখন খুঁজছেন অফবিট ঠিকানা। দার্জিলিংয়ের পুলবাজার এলাকার ছোট্ট গ্রাম কোলবং হতে পারে আপনার জন্য পারফেক্ট ডেস্টিনেশন, যেখানে বারান্দায় বসেই দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga)।

Darjeeling Travel: দার্জিলিং মানেই পাহাড়, দার্জিলিং মানেই কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga), মনোরম দৃশ্য। তবে ইদানিং তার সঙ্গেই জুড়ে গিয়েছে আরও কয়েকটি বিষয়। তা হল পর্যটকের ভিড়, এমন ভিড় যা দেখলে মনে হয় কলকাতার দুর্গাপুজো। লম্বা জ্যাম আর রাস্তায় গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা। ছুটি কাটাতে গিয়ে শান্তির বদলে জোটে শুধুই ক্লান্তি। তাই এখন অফবিট ডেস্টিনেশনের খোঁজে থাকেন অনেকেই। পরিচিত নামগুলির বাইরেও উত্তরবঙ্গে এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে পাহাড়কে উপভোগ করা যায় অনেক বেশি। তেমনই এক অফবিট গন্তব্য হল কোলবং। দার্জিলিং জেলার পুলবাজার ব্লকে অবস্থিত এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি প্রকৃতিপ্রেমী ও শান্ত পরিবেশে ছুটি কাটাতে চাওয়া পর্যটকদের জন্য বেশ আকর্ষণীয়। শিলিগুড়ি থেকে এই গ্রামের দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিলোমিটার, আর দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার। এখনও এখানে বড় হোটেলের ভিড় শুরু হয়নি।

কেন যাবেন কোলবং?

এই গ্রামের আসল ইউএসপি হল নিস্তব্ধতা। এখানে কোনও গাড়ির হর্ন নেই, দোকানের মাইক নেই। চারিদিকে শুধু ধাপে ধাপে চাষের জমি, কমলালেবুর বাগান, পাইন বন আর মাথার ওপর খোলা আকাশ। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে হোমস্টের বারান্দায় বসে গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতেই দেখতে পাবেন ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ। ভোরবেলা সূর্যের আলো যখন বরফচূড়ায় পড়ে, সেই দৃশ্য ভোলার নয়।

কী কী করবেন?

কোলবংয়ে বেড়ানোর মূল আনন্দই হলো জায়গাটিকে এক্সপ্লোর করার মধ্যে। গ্রামের পথ ধরে হাঁটতে পারেন। চারপাশের সবুজ, পাহাড়ি গাছপালা, মেঘের আনাগোনা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা ক্যামেরাবন্দি করতে পারেন। ভোরের মেঘলা পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করার পাশাপাশি পাখি দেখারও সুযোগ মিলতে পারে। প্রকৃতির মধ্যে বসে বই পড়া, স্থানীয় খাবার খাওয়া কিংবা হোমস্টের বারান্দায় বসে পাহাড় দেখা— এখানে ‘কিছু না করা’-ও আপনাকে দিতে পারে অনাবিল আনন্দ।

থাকা-খাওয়া ও কী দেখবেন?

এখানে থাকার জন্য রয়েছে কিছু সুন্দর পাহাড়ি হোমস্টে। স্থানীয় পরিবারগুলিই এগুলি চালান, তাই ঘরোয়া আতিথেয়তা ও অর্গানিক খাবারের স্বাদ পাবেন। রাতের বেলা আকাশ এতটাই পরিষ্কার থাকে যে মনে হবে তারাগুলো খুব কাছে। কোলবং থেকে সাইটসিয়িং হিসেবে ঘুরে নিতে পারেন লোধোমা নদী, শ্রীখোলা, রিম্বিক। যারা একটু হাঁটাহাঁটি পছন্দ করেন, তারা গ্রামের ভেতরের ট্রেইল ধরে হাইকিং করতে পারেন, পাখি দেখতে পারেন। যদি দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে দুটো দিন একান্তে পাহাড়ের কোলে কাটাতে চান, তাহলে লিস্টে কোলবংকে রাখতেই পারেন।

কীভাবে যাবেন?

এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে শেয়ার বা রিজার্ভ গাড়িতে পৌঁছতে হবে বিজনবাড়ি হয়ে পুলবাজার। আগে থেকে হোমস্টে বুক করলে তারাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়। থাকা-খাওয়া নিয়ে মাথাপিছু খরচ পড়বে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।