দামি সিরামে কাজ হচ্ছে না? বিউটি এক্সপার্ট আর ট্রাইকোলজিস্টরা এখন এক বাক্যে বলছেন - *রোজমেরি*। বিদেশে, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় রোজমেরি অয়েলকে ডাকা হয় "ন্যাচারাল মিনোক্সিডিল" নামে। ১০০ টাকার রোজমেরি দিয়েই বাড়িতে বানান হেয়ার গ্রোথ স্প্রে। রোজ ব্যবহারে কমবে হেয়ার ফল, গজাবে নতুন বেবি হেয়ার।

সকালে বালিশে, চিরুনিতে, বাথরুমের ড্রেনে - সব জায়গায় শুধু চুল আর চুল। শ্যাম্পু পাল্টেছেন, তেল পাল্টেছেন, ইউটিউব দেখে দামি দামি সিরামও লাগিয়েছেন। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। বরং আয়নায় দেখছেন কপালটা আস্তে আস্তে চওড়া হচ্ছে, সিঁথির ফাঁক বড় হচ্ছে।

এই সময়টায় মন খারাপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টেনশন করবেন না। বিউটি এক্সপার্ট আর ট্রাইকোলজিস্টরা এখন এক বাক্যে বলছেন - *রোজমেরি*। বিদেশে, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় রোজমেরি অয়েলকে ডাকা হয় "ন্যাচারাল মিনোক্সিডিল" নামে। কারণ এটা ঠিক ওষুধের মতোই কাজ করে, কিন্তু কোনো সাইড এফেক্ট ছাড়া। রোজমেরি স্ক্যাল্পের ভিতরে গিয়ে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, হেয়ার ফলিকলকে নিউট্রিশন দেয় আর ঘুমিয়ে থাকা চুলের গোড়াকে আবার জাগিয়ে তোলে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই পাওয়ারফুল জিনিসটা দিয়ে আপনি বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারবেন সুপার ইফেক্টিভ হেয়ার স্প্রে। বাজার থেকে কিনতে গেলে যার দাম ৮০০-১০০০ টাকা, সেটা বাড়িতে বানাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা।

*রোজমেরি কেন চুলের জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করে*?

রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে নতুন চুল গজায়। রোজমেরি শুধু একটা সুগন্ধি গাছ নয়। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে Carnosic Acid, Rosmarinic Acid আর Ursolic Acid এর মতো পাওয়ারফুল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো সরাসরি স্ক্যাল্পের উপর কাজ করে। প্রথমে এটা স্ক্যাল্পের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে, ফলে মাথার তালুতে রক্ত চলাচল অনেক বেড়ে যায়। যখন গোড়ায় ভালো করে রক্ত পৌঁছায়, তখন চুলের ফলিকল প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আর পুষ্টি পায়। যেসব ফলিকল দুর্বল হয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো আবার অ্যাক্টিভ হয়ে ওঠে। সেইজন্যই কপালের ধারে আর সিঁথিতে নতুন বেবি হেয়ার গজাতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, রোজমেরির অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল আর অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ ড্যান্ড্রাফ আর স্ক্যাল্পের চুলকানি কমাতেও দারুণ কাজ দেয়। নিয়মিত ৩ মাস ব্যবহার করলে ৭০-৮০% পর্যন্ত চুল পড়া কমে যাওয়ার রিপোর্ট আছে। আর যেহেতু এটা পুরোপুরি ন্যাচারাল, তাই কেমিক্যালের মতো চুল রুক্ষ বা স্ক্যাল্প জ্বালা করার ভয় নেই।

*বাড়িতেই বানান রোজমেরি হেয়ার স্প্রে - মাত্র ৩টে উপকরণ :*

১০ মিনিটেই রেডি হয়ে যাবে

বিউটি স্টোরে গিয়ে ব্র্যান্ডেড রোজমেরি স্প্রে কিনতে গেলে পকেট ফাঁকা। অথচ আপনার রান্নাঘর আর পাশের মুদির দোকানেই আছে সব সমাধান। এই স্প্রে বানাতে সময় লাগবে মাত্র ১০ মিনিট আর খরচ হবে ১০ টাকারও কম।

*উপকরণ লাগবে:*

২ কাপ পরিষ্কার জল, ২ টেবিল চামচ শুকনো রোজমেরি পাতা বা ১০-১৫টা টাটকা রোজমেরির ডাল। যদি হাতের কাছে পান তাহলে ৫ ফোঁটা পিওর রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল। এটা অপশনাল কিন্তু দিলে রেজাল্ট অনেক তাড়াতাড়ি পাওয়া যায় কারণ কনসেনট্রেশন বেশি থাকে।

*বানানোর পদ্ধতি:*

প্রথমে একটা স্টিল বা কাঁচের পাত্রে ২ কাপ জল নিয়ে গ্যাসে বসিয়ে দিন। জলটা টগবগ করে ফুটে উঠলে গ্যাস একদম কমিয়ে দিন। এবার তার মধ্যে রোজমেরি পাতা বা ডালগুলো ছেড়ে দিন। সাথে সাথে ঢাকা দিয়ে দিন। ১৫ থেকে ২০ মিনিট এভাবেই ডিমের মতো ফুটিয়ে নিন। দেখবেন জলের রংটা আস্তে আস্তে গাঢ় বাদামি হয়ে যাচ্ছে। এর মানে রোজমেরির সব গুণ জলের মধ্যে চলে এসেছে। এবার গ্যাস বন্ধ করে পাত্রটা ঠান্ডা হতে দিন। পুরো ঠান্ডা হয়ে গেলে একটা ছাকনি দিয়ে ছেঁকে নিন। এই ছাঁকা জলটাই হল আপনার বেস। এবার একটা স্প্রে বোতলে এই জলটা ভরে নিন। লাস্টে ৫ ফোঁটা রোজমেরি এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। ব্যাস, আপনার বাজার কাঁপানো হেয়ার গ্রোথ স্প্রে রেডি। এটাকে ফ্রিজে রেখে দিন। ১৫ দিন পর্যন্ত একদম ফ্রেশ থাকবে।

*কীভাবে ব্যবহার করবেন আর কতদিনে রেজাল্ট পাবেন*:

সপ্তাহে ৪ দিন, শুধু স্ক্যাল্পে লাগান।

এই স্প্রে ব্যবহারের নিয়মটা খুব সহজ কিন্তু কনসিসটেন্সি মেনে চলতে হবে। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে বা যেকোনো দিন শুকনো পরিষ্কার চুলে ব্যবহার করতে পারেন। চুল আঁচড়ে সিঁথি করে নিন। তারপর স্প্রে বোতলটা নিয়ে সরাসরি স্ক্যাল্পে স্প্রে করুন। চুলে নয়, একদম গোড়ায় লাগাতে হবে। তারপর আঙুলের ডগা দিয়ে ৫ মিনিট হালকা করে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন। এতে রক্ত সঞ্চালন আরও বাড়বে। ধোয়ার কোনো দরকার নেই, এভাবেই রেখে দিন। সপ্তাহে ৪ দিন এই রুটিন ফলো করুন।

এবার আসি আসল প্রশ্নে - রেজাল্ট কবে পাবেন? দেখুন চুল গজানোর একটা নিজস্ব সাইকেল আছে। তাই ১ সপ্তাহে জাদু হবে না। সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে আপনি বুঝবেন চুল পড়া অনেক কমে গেছে। আর কপালের ধারে ছোট ছোট নতুন চুল দেখতে পাবেন ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে। ধৈর্য ধরে ৯০ দিন কন্টিনিউ করুন। সাথে যদি সপ্তাহে ২ দিন হালকা গরম নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ করে তার উপর এই স্প্রে লাগান, তাহলে রেজাল্ট আরও ডবল স্পিডে পাবেন।

*কেমিক্যালকে না বলুন, প্রকৃতিকে হ্যাঁ বলুন*

মার্কেটে যে হেয়ার গ্রোথ স্প্রেগুলো পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগেই অ্যালকোহল, প্যারাবেন আর সালফেট থাকে। এগুলো প্রথমে চুল ভালো করলেও লং টার্মে স্ক্যাল্পকে ড্রাই করে দেয়, ফলিকল দুর্বল করে দেয়। কিন্তু ঘরে বানানো এই রোজমেরি স্প্রে ১০০% ন্যাচারাল। কোনো সাইড এফেক্ট নেই, শুধু উপকার আর উপকার।

তাই আর দেরি না করে আজই বানিয়ে ফেলুন। ৩ মাস নিজেকে সময় দিন। ৯০ দিন পর আয়নায় দাঁড়িয়ে নিজেই নিজের চুলের ঘনত্ব দেখে অবাক হয়ে যাবেন।