টানা ৮ ঘণ্টা কাজ করলে ক্লান্তি আসবেই। গবেষণা বলছে, প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ মিনিটের ছোট বিরতি মনোযোগ, সৃজনশীলতা এবং কর্মক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। জানুন কীভাবে এই ৫ মিনিটকে কাজে লাগাবেন।
সকাল ৯টা থেকে সন্ধে ৬টা। ডেস্কে বসে টানা কাজ করে যাচ্ছেন। চোখ জ্বালা করছে, মাথা ভার, আর কাজে ভুলও বাড়ছে। চেনা লাগছে? আমরা ভাবি, বিরতি নিলে কাজ পিছিয়ে যাবে। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ঠিক উল্টোটা। টানা কাজ করলে আপনার ব্রেন "Fatigue" হয়ে যায়। তখন ১ ঘণ্টায় যে কাজ ১০ মিনিটে হওয়ার কথা, সেটাও করতে ৩০ মিনিট লেগে যায়।
সমাধান হল "Micro Break"। প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ৫ মিনিট। এই ছোট বিরতিই আপনার ফোকাস রিসেট করে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি ৫০-৬০ মিনিট অন্তর ৫ মিনিট করে বিরতি নেন, তাদের কর্মক্ষমতা প্রায় ১৩% পর্যন্ত বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে ব্রেন বিশ্রাম পায় এবং নতুন করে এনার্জি নিয়ে কাজে ফিরতে পারে।
তাহলে এই ৫ মিনিটে কী করবেন? ফোন স্ক্রল করা কিন্তু একদম নয়। তাতে ব্রেন আরও ক্লান্ত হয়। বরং চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। জানলার বাইরে একটু সবুজ দেখুন। চোখ বন্ধ করে ১০ বার গভীর শ্বাস নিন। ঘাড়, কাঁধ আর কবজি স্ট্রেচ করুন। এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। যদি সম্ভব হয়, অফিসের ছাদে বা ব্যালকনিতে ২ মিনিট হেঁটে আসুন। এই ছোট ছোট কাজগুলো রক্ত চলাচল বাড়ায় এবং ব্রেনে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।
এর ফলে কী লাভ হয়? প্রথমত, মনোযোগ বাড়ে। বিরতির পর কাজে ফিরে আপনি অনেক বেশি মন দিয়ে কাজ করতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, সৃজনশীলতা বাড়ে। আটকে থাকা কোনও সমস্যার সমাধান হঠাৎ মাথায় চলে আসবে। তৃতীয়ত, শরীরের ক্লান্তি কমবে। কোমর ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, চোখের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, দিনের শেষে আপনার "Burnout" হবে না।
অনেকেই ভাবেন বস কী ভাববে। কিন্তু সত্যি বলতে, যে কর্মী বেশি প্রোডাক্টিভ, বস তাকেই পছন্দ করেন। তাই ল্যাপটপে একটা রিমাইন্ডার সেট করে নিন। প্রতি ঘণ্টায় অ্যালার্ম বাজলেই ৫ মিনিটের জন্য উঠে পড়ুন। এই ৫ মিনিটকে "ইনভেস্টমেন্ট" ভাবুন। কারণ এই ৫ মিনিটই আপনাকে বাকি ৫৫ মিনিট অনেক বেশি এনার্জি দিয়ে কাজ করতে সাহায্য করবে।
তাই আজ থেকেই নিয়ম করুন। টানা কাজ নয়, স্মার্ট কাজ। প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিটের বিরতি। দেখবেন ক্লান্তি কমেছে, কাজের গতি বেড়েছে, আর অফিস থেকে বাড়ি ফিরেও এনার্জি থাকছে।


